কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় ১০০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সুবিধা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫৩ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা আবার শুরু হওয়ায় ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, চীনের সিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কাংরিনবোকে ফেং এবং মাপাম ইউকো (কৈলাস মানস সরোবর) এলাকায় ভারতীয় বন্ধুদের তীর্থযাত্রা পুনরায় চালু হয়েছে।
চীনা পক্ষ আরো জানিয়েছে, এ বছর তারা এক হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে সেবা দিতে প্রস্তুত। পোস্টে আশা প্রকাশ করা হয়, এই তীর্থযাত্রা দুই দেশের মহান সভ্যতার মধ্যে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব এবং জনগণের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করবে।
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর অনেক মানুষ এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেন। হিন্দুদের কাছে এটি ভগবান শিবের বাসস্থান হিসেবে পবিত্র। পাশাপাশি জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই স্থানটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৩০ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, চীন সরকারের সমন্বয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই যাত্রা ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এ বছর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় মোট ২০টি দলে তীর্থযাত্রী পাঠানো হবে। প্রতিটি দলে থাকবে ৫০ জন করে যাত্রী। এর মধ্যে ১০টি দল উত্তরাখণ্ড হয়ে লিপুলেখ পাস দিয়ে যাত্রা করবে।
আর বাকি ১০টি দল সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে যাবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৈলাস মানস সরোবর (কেএমওয়াই) যাত্রার পুরো প্রক্রিয়াই এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক। অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে যাত্রী নির্বাচন সব কিছুই ডিজিটালভাবে করা হবে। আগ্রহীরা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে লগইন করে সহজেই আবেদন জমা দিতে পারবেন। তথ্য জানার জন্য আলাদা করে চিঠি বা ফ্যাক্স পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
এ ছাড়া, যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য জানা, মতামত দেওয়া বা উন্নয়নের পরামর্শ দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে ফিডব্যাক অপশনও রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনকারীরা চাইলে উভয় পথই নির্বাচন করতে পারবেন অথবা শুধু একটি পথও বেছে নিতে পারবেন। তবে কোন পথে যেতে চান, সেটি অগ্রাধিকার দিয়ে আবেদন করতে হবে। এ বছরের নিবন্ধনের শেষ তারিখ ১৯ মে ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এটি দুইটি ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে। বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী যোগ্য ভারতীয় নাগরিকরা, যারা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কৈলাস-মানস সরোবরে যেতে ইচ্ছুক, তারা এই কেএমওয়াইতে অংশ নিতে পারেন।
পিআর/টিএ