ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৮ এএম | ০২ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানকে সমর্থন না করায় ইউরোপীয় দেশগুলো ‘ভয়াবহ’ আচরণ করছে। এর একদিন আগে ট্রাম্প জানান, জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
এ মন্তব্য আসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি বলেন, ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচনার ধারাবাহিকতায় এমন মন্তব্য আসে, যারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার উদ্যোগে সহায়তা করছে না।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাতের বিরোধিতা করে আসছেন। অন্যদিকে ইতালি প্রথমে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিলেও মার্চের শেষ দিকে সিসিলির একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুদ্ধের জন্য মার্কিন অস্ত্রবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহার তিনি ‘সম্ভবত’ বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, ইতালি আমাদের কোনো সহায়তা করেনি, আর স্পেন একেবারেই ভয়াবহ।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো ট্রাম্পের এই হুমকিকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেন এবং রোমের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র নিরাপত্তা মিশনে ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছে, যা মার্কিন সেনাবাহিনী প্রশংসা করেছে।
ইতালিতে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা সাতটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে। স্পেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দেশটি ইতোমধ্যে ইরানে হামলার জন্য মার্কিন ব্যবহৃত যৌথ ঘাঁটির অনুমতি দেয়নি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ট্রাম্পের নীতির অন্যতম কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
গত মাসে ট্রাম্প স্পেনের বিরুদ্ধে পূর্ণ বাণিজ্য অবরোধের হুমকি দেন। বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন সেনা রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি জার্মানিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার হলে তা কৌশলগত সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকনও ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। গত বছর মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাশ করে, যাতে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে ইউরোপ থেকে বড় সেনা প্রত্যাহার সীমিত করা হয়।
জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের হুমকিকে বাস্তব পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
এমআর/টিএ