বাবার চোখের জল দেখে নায়ক হওয়ার শপথ নেন অনিল কাপুর!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৫ এএম | ০২ মে, ২০২৬
বলিউডের তারকা অনিল কাপুর-এর ঝলমলে সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। আজ যাকে ‘ঝাক্কাস’ এনার্জির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তাঁর শুরুর পথ কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। বরং এক সময় পারিবারিক বিপর্যয়ই তাঁকে গড়ে তুলেছিল আজকের অবস্থানে।
এই গল্পের সূচনা একটি বড় ধাক্কা দিয়ে। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না-কে নিয়ে নির্মিত একটি বড় বাজেটের ছবিতে বিনিয়োগ করেছিলেন অনিলের বাবা সুরিন্দর কাপুর। প্রত্যাশা ছিল বিপুল সাফল্যের, কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি ব্যর্থ হয় বক্স অফিসে। সেই ব্যর্থতার অভিঘাতে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।
অনিল কাপুর পরবর্তীতে স্মৃতিচারণা করে জানান, সেই কঠিন সময়ের একটি দৃশ্য তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। কাজের সূত্রে বাইরে গিয়ে ফিরে আসার পর তাঁর বাবার চোখে জল না থাকলেও, চোখের কোণে জমে থাকা কষ্ট তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন। সেই মুহূর্তই যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অভাবের দিনেও কাপুর পরিবারের আতিথেয়তায় কোনো ঘাটতি ছিল না। চেম্বুরে তাঁদের বাড়ি ছিল চলচ্চিত্র জগতের মানুষের জন্য এক উন্মুক্ত ঠিকানা। অনিলের মা ছিলেন রান্নার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়, শিল্পীদের অনেকেই তাঁর হাতের রান্না পছন্দ করতেন। ব্যক্তিগত সমস্যাতেও অনেকেই তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসতেন।
তবে প্রযোজকের ছেলে হয়েও অনিলের জন্য কোনো সহজ রাস্তা তৈরি হয়নি। তাঁর বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিনেতা হতে হলে নিজেকেই নিজের পথ তৈরি করতে হবে। কোনো প্রকার সুবিধা তিনি দেবেন না। এর মধ্যেই বাবার অসুস্থতা, এমনকি হৃদরোগের মতো পরিস্থিতি পরিবারকে আরও চাপে ফেলে।
এই কঠিন বাস্তবতা অনিলকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তোলে। মাত্র আঠারো-উনিশ বছর বয়সেই কাজের খোঁজে নানা জায়গায় ঘুরেছেন তিনি। সেই সময়ই তিনি নিজের মনে প্রতিজ্ঞা করেন, বাবার অপমানের জবাব দিতে হলে তাঁকে সফল অভিনেতা হতেই হবে।
শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীকালে তাঁর অভিনয় এবং সাফল্যই শুধু নয়, বাবার প্রযোজনায়ও একের পর এক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন সংগ্রামই তাঁকে তৈরি করেছে।
পিআর/এসএন