লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৪১ জনের
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৫ এএম | ০৩ মে, ২০২৬
লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়। শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ২,৬৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮ হাজার।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়াহ জেলার শুকাইন শহরে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর আগে কাফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলা চালালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো নাবাতিয়াহ শহরের আল-কুদস চত্বর এবং টায়ার জেলার সিদ্দিকিন শহরেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তবে নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের ফ্রন্টলাইন শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের সমাবেশ এবং যানবাহনকে লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ফাইবার-অপটিক কেবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তারা, যার ফলে অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
গত ১৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং এই পরিস্থিতিকে ‘আসল যুদ্ধবিরতি নয় বরং কিছুটা কম মাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর এই নামমাত্র যুদ্ধবিরতি বাতিলের জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং বিরোধী দলগুলো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরার পরিবর্তে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমআর/টিএ