© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে কীভাবে দোয়া করবেন?

শেয়ার করুন:
পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে কীভাবে দোয়া করবেন?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৬ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় কেউ কাউকে নিঃশব্দে পছন্দ করে- কিন্তু সে সম্পর্ককে হারাম পথে না নিয়ে বৈধভাবে, বিয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছা পোষণ করে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে- এমন কারও জন্য কি আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়?

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার জন্য দোয়া করা যাবে?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে- সেই সম্পর্ক যেন কোনোভাবেই অবৈধ বা ইসলামবিরোধী না হয়।

অর্থাৎ, যদি নিয়ত থাকে পবিত্র এবং লক্ষ্য থাকে বিয়ে, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যাবে। আর যদি এতে আপনার জন্য কল্যাণ থাকে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তা সহজ করে দিতে পারেন।

দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

‘বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল করা হয়, যতক্ষণ সে কোনো গুনাহের বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়ো না করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
এ থেকে বোঝা যায়, দোয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্য, বিশুদ্ধ নিয়ত এবং বৈধ উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দোয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করুন

যাকে আপনি পছন্দ করেন, সে হয়তো আপনার জন্য উত্তম নাও হতে পারে। তাই আলেমরা পরামর্শ দেন- দোয়ার সঙ্গে একটি শর্ত যুক্ত করতে-

‘হে আল্লাহ, যদি এই ব্যক্তি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করুন এবং বিষয়টি সহজ করে দিন।’

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ عَسٰۤی اَنۡ تَكۡرَهُوۡا شَیۡئًا وَّ هُوَ خَیۡرٌ لَّكُمۡ ۚ وَ عَسٰۤی اَنۡ تُحِبُّوۡا شَیۡئًا وَّ هُوَ شَرٌّ لَّكُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ

‘হয়তো তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার যা তোমরা পছন্দ করো, তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর হতে পারে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২১৬)

কোনো সিদ্ধান্ত আপনার জন্য উত্তম কি না- তা জানার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো ইস্তিখারা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইস্তিখারা করতে শিক্ষা দিতেন। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সঠিক পথনির্দেশনা চাওয়া- এটাই ইস্তিখারার মূল উদ্দেশ্য। এতে করে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য কুরআনের দোয়া

নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য কুরআনের কিছু দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে- 

১. হজরত মুসা (আ.)- এর দোয়া

رَبِّ إِنِّى لِمَا أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।’

অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা আল-কাসাস: আয়াত ২৪)

এই দোয়ার পরই আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-এর জন্য জীবনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও উত্তম জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেন।

২. চোখের শীতলতার দোয়া

رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিওঁ ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭৪)

দোয়া হলো একজন মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। আপনি যদি কাউকে পছন্দ করেন এবং তাকে বৈধভাবে জীবনে পেতে চান, তবে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সঙ্গে প্রার্থনা করুন। তবে মনে রাখবেন- চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহরই।

হয়তো আপনি যা চাইছেন, তা আপনার জন্য ভালো- আবার হয়তো আল্লাহ আপনার জন্য আরও উত্তম কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই দোয়া করুন, চেষ্টা করুন এবং ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন- নিশ্চয়ই তিনি আপনার জন্য সর্বোত্তমটাই বেছে নেবেন।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন