রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট মূল্যায়ন করে প্রকল্প হাতে নেবে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৪ পিএম | ০৪ মে, ২০২৬
আগামীতে সরকার যে প্রকল্পগুলো হাতে নেবে, সেখানে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিনিয়োগ থেকে আয়ের পরিমাণ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগে কী পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রয়েছে, তাই এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পে পরিবেশ ও প্রতিবেশের রক্ষা গুরুত্ব পাবে। এর মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য কমিয়ে একটি কল্যাণকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (৪ মে) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ও জনগণের আস্থা অনুযায়ী একটি বড় লক্ষ্য ও পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে মাঠ পর্যায়ে সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে, সেজন্য আমরা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে কীভাবে আরও কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা যাবে, যার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে, সেটি আমরা জানার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ খোঁজা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের একটি লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ গড়ে তোলা; যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমাজের বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহায়তা জোরদার করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিগুলো জেলা প্রশাসকদের জানানো হচ্ছে। এই আলোচনায় জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে যেসব বাধার সম্মুখীন তারা হন, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতার পথ সহজ করে নিচ্ছি।
মো. জোনায়েদ সাকি যোগ করেন, আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পঞ্চবার্ষিক একটি পরিকল্পনা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছি। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পেয়েছে, সেটি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। অর্থনৈতিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপর্যস্ত। প্রাথমিকভাবে আমাদের লক্ষ্য হলো কীভাবে এগুলো পুনরুদ্ধার করা যায়; পরবর্তীতে আমরা সমৃদ্ধির দিকে যাব। এজন্য আগামী উন্নয়ন বাজেট খুবই গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়ন করা হবে। সর্বাধিক গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) জেলা কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য ডিসিরা দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করেই উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য অতীতের প্রকল্পগুলোকে সংযোজন ও বিয়োজন করে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরেকটি হলো, নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো পুরোপুরি নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে করা হচ্ছে। ইশতেহারকে একটি প্রোগ্রামে পরিণত করে সেই প্রোগ্রামের অধীনে প্রকল্পগুলো নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত নেই। এজন্য এসআইডিকে (পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কোনো তথ্য-উপাত্তের যেন ঘাটতি না থাকে এবং ডেটা ম্যানিপুলেট না হয়, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইএমইডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনে ডিসিদের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা, অর্থবছরের 'ক্যালেন্ডার ইয়ার' নিয়ে জটিলতা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সমস্যা এবং বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে গুরুত্বসহকারে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা (ডিসিরা) যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছেন, সেগুলো লিখিত আকারেও দিচ্ছেন। আমরা এগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আরও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।
টিজে/এসএন