ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৭ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
বরগুনার তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রোববার (৩ মে) গণিত পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের পূর্ব সওদাগর পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম খানের মেয়ে মোসাম্মৎ নাইমা তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে তালতলী কেন্দ্রের ৪ নম্বর হলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল।
রোববার গণিত পরীক্ষায় তাকে নিয়মিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের অনিয়মিত প্রশ্ন দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে সিলেবাস মিলিয়ে দেখে সে বিষয়টি বুঝতে পারে। এতে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘণ্টা পড়ার পর পরীক্ষা শুরু হলে অন্য শিক্ষার্থীরা সঠিক প্রশ্নপত্র পেলেও নাইমাকে তা দেওয়া হয়নি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর একজন শিক্ষক অন্য হল থেকে একটি প্রশ্নপত্র এনে দেন। পরে জানা যায়, সেটি ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র ছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, তাকে ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং এতে তার সময়ও নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মাস্টার জানান, নাইমা তাদের নিয়মিত শিক্ষার্থী। গণিত পরীক্ষায় তাকে ২০২৬ সালের নিয়মিত প্রশ্নের পরিবর্তে ২০২৫ সালের অনিয়মিত প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। একই কেন্দ্রে আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতিকেও নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য সেট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রের হল সচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নাইমাকে অনিয়মিত প্রশ্ন দেওয়া হয়নি। তবে সন্ধ্যার পর নাইমা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এ অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, রাতেই অভিযোগ পাওয়ার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিবকে শিক্ষার্থীর রোল নম্বরসহ আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
এসকে/টিএ