ওমরাহ করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৯ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। প্রত্যেক মুসলমান হজ, ওমরাহ পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন নিজের মনের ভেতর। তবে ওমরাহ বা হজের পরিকল্পনা অনেক সময় বেশ জটিল মনে হতে পারে। সময় মেলানো, দিনক্ষণ ঠিক করা আর হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে কি না- তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন অনেকেই। ব্যস্ত জীবনে দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে আধ্যাত্মিক এই সফরের সমন্বয় করা অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
ওমরাহ পালনে আসলে কত দিন সময় লাগে? হজের সঙ্গে এর পার্থক্য কী? কিংবা ওমরাহ ভিসার মেয়াদ কত দিনের হয়? এমন সব প্রশ্নের সহজ সমাধান তুলে ধরা হলো-
ওমরাহ করতে গড়ে কতক্ষণ সময় লাগে?
ওমরাহ পালনের মূল কাজগুলো সম্পন্ন করতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ওমরাহ যাত্রীর হাঁটার গতি, ভিড় এবং প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে এই সময় কম-বেশি হতে পারে। মক্কায় পৌঁছানোর পর ওমরাহর মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। অর্থাৎ, দিনের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যয় করলেই একটি ওমরাহ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে যাতায়াত, বিশ্রাম এবং আনুষঙ্গিক সময় মিলিয়ে অধিকাংশ মানুষ ২ থেকে ৩ দিন সময় হাতে রাখেন। হজের মতো ওমরাহর জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময় নেই, তাই বছরের যেকোনো সময় এটি পালন করা যায়।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
সফরের আগে কিছু জরুরি কাজ সেরে নেওয়া ভালো, যা আপনার মানসিক চাপ কমাবে এবং ইবাদতে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে রয়েছে- বৈধ পাসপোর্ট ও ওমরাহ ভিসা, যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, হোটেলের বুকিং, ইহরামের কাপড়, তাওয়াফ ও সাঈর জন্য প্রয়োজনীয় দোয়া বা অ্যাপ এবং যাতায়াতের জন্য আরামদায়ক জুতা। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় টিকা বা স্বাস্থ্য সনদ সঙ্গে রাখা জরুরি।
কত দিনের পরিকল্পনা করবেন?
যাতায়াতসহ একটি সংক্ষিপ্ত ওমরাহ সফরের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন সময় প্রয়োজন। এতে জরুরি কোনো বিলম্ব বা বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত টাইম পাওয়া যায়। তবে অনেকেই মক্কা ও মদিনায় বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করেন। তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখেন এবং ধীরস্থিরভাবে ইবাদত করেন। একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘ সফর সাধারণত বেশি স্বস্তিদায়ক হয়।
ওমরাহর মূল ধাপগুলো
ওমরাহ সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে হয়। প্রথমে ওমরাহর নিয়ত করে মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। এরপর তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কায় প্রবেশ করে কাবা শরীফ সাতবার প্রদক্ষিণ বা তাওয়াফ করতে হয়। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমে দুই রাকাত নামাজ পড়ে জমজমের পানি পান করতে হয়। এরপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ানো বা সাঈ করা এবং সর্বশেষ মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হতে হয়।
সময় কম-বেশি হওয়ার কারণ
ওমরাহ করতে কতক্ষণ সময় লাগবে, তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। রমজান মাস বা ছুটির দিনে প্রচণ্ড ভিড় থাকে, ফলে তাওয়াফ ও সাঈ করতে অনেক বেশি সময় লাগে। আবার বয়স্ক বা শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশ্রামের প্রয়োজন হওয়ায় সময় বেশি লাগতে পারে। একা ভ্রমণ করলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হলেও কাফেলা বা গ্রুপের সঙ্গে থাকলে সবার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কিছুটা দেরি হতে পারে।
জরুরি কিছু তথ্য
পুরো বছর ওমরাহর কার্যক্রম চালু থাকে। তবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুম উপলক্ষে ১৯ এপ্রিল থেকে বিদেশী ও ৩ মে থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ওমরাহযাত্রীদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু হজযাত্রীরা ওমরাহ পালন করতে পারছেন।
হজ মৌসুমের পর এই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বছরের পুরো সময় ওমরাহযাত্রীরা নুসুক প্ল্যাটফর্ম বা অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত হজের ১৫ থেকে ৩০ দিন পর পুনরায় ওমরাহ ভিসা দেওয়া শুরু হয়। এক দিনেও ওমরাহ শেষ করা সম্ভব, তবে এতে শরীরের ওপর বেশ ধকল যায়। তাই অন্তত এক রাত মক্কায় অবস্থান করা উত্তম। সাধারণ সময়ে কাবা শরীফ সাতবার প্রদক্ষিণ করতে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট সময় লাগে।
ওমরাহ পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন সময়সীমা নেই। নিয়ম অনুযায়ী কাজগুলো শেষ করলেই ওমরাহ সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা আপনার এই পবিত্র সফরকে আরও অর্থবহ ও স্মৃতিময় করে তুলবে।
এসএ/এসএন