© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুদকের মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি কারাগারে

শেয়ার করুন:
দুদকের মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১১ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীর এ আদেশ দেন।
 
হামিদুল আলম বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়ার বাসিন্দা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি। গত বছরের (২০২৫ সালের) সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে শাস্তিমূলক বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
 
দুদক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি মিলনের বিরুদ্ধে স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুদক।
 
মামলার এজাহারে বলা হয়, শাহাজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব দেন। একই সঙ্গে স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগদখলে রাখেন।
 
এছাড়া স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে শাহাজাদী আলম লিপি ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন। সম্পদের উৎস গোপন বা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেন তিনি।
 
 
এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
 
দুদকের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আনোয়ার হোসেন জানান, এ মামলায় মঙ্গলবার আদালতে শুনানি ছিল। তিনি বলেন, ‘মামলায় আজ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম মিলন। কিন্তু জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।’
 
বগুড়ার কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত আজ সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আদেশের পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
 
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সাবেক এই অতিরিক্ত ডিআইজি। ফ্ল্যাট দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। পরে ঈদুল ফিতরের কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
 
এছাড়া চাকরিতে থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিলনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার সঙ্গে তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকেও আসামি করা হয়েছে।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন