© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমি তৃণমূলপন্থী নই: কবীর সুমন

শেয়ার করুন:
আমি তৃণমূলপন্থী নই: কবীর সুমন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১০ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন শিল্পী কবীর সুমন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী জানান, ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’


এর আগে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং কবীর সুমনের নাম প্রায় সমর্থক হিসেবেই ধরা হতো। বিশেষ করে গত মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর সেই ধারণা আরো জোরালো হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুমন বলেন, ‘তিনি কখনোই দলের আনুষ্ঠানিক সদস্য ছিলেন না। তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি একসময় নির্বাচনে অংশ নেন, কিন্তু মেয়াদ শেষ হতেই সরে দাঁড়ান।’

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির উত্থান এবং রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে সুমন বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে চাকরির ক্ষেত্রের সমস্যাগুলো মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে। যদিও একই সঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু সামাজিক প্রকল্প- যেমন শিক্ষার্থীদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসাও করেন।

নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারগুলোর আমলে নারীদের নিরাপত্তা মোটামুটি বজায় ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশা করেন।



সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিধ্বংসী রেজাল্ট নিয়েও নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন কবীর সুমন। তার কথায়, ‘যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনরায় কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।

কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ঙ্করভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কতবড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’

একই সঙ্গে সুমন জানান, ভবিষ্যতে উপযুক্ত কোনো বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি সামনে এলে তিনি তাদের সমর্থন করতে পারেন। এমন মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে কি তিনি এবার নিজেকে বাম সমর্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন?

শিল্পীর এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন