প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেইমার বললেন, ‘ভুল তো মানুষেরই হয়’
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৩ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
সান্তোসের অনুশীলন মাঠে সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় মুখ খুলেছেন নেইমার। নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
গত মঙ্গলবারের দেপোর্তিভো রিকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচে গোল করার পর সাইডবেঞ্চে থাকা রবিনহো জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে সেই গোলের উদযাপন করেন নেইমার। ম্যাচ শেষে সাংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার নিজের ভুল স্বীকার করেন। পাশপাশি সবকিছু মিটমাট করার কথাও বললেন।
নেইমার বলেন, ‘তারা (রবিনহো জুনিয়রের প্রতিনিধিরা) যদি সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে থাকে, তবে এই যে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইতিমধ্যেই রবিনহো এবং তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। স্বীকার করছি, সেদিন আমি একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছিলাম; পরিস্থিতিটা অন্যভাবেও সামলানো যেত, কিন্তু আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম।’
নেইমার আরও যোগ করেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে; এটা আমার ভুল ছিল, তারও ভুল ছিল, তবে আমার ভুলের পাল্লাটা একটু বেশিই ভারী ছিল। গত সোমবার আমরা আবারও সবাই একত্রিত হয়েছিলাম। আমি পুরো দলের সামনে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সে-ও ক্ষমা চেয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম বিষয়টি সেখানেই মিটে গেছে।’
গত রবিবারের অনুশীলন সেশনে নেইমারকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাওয়ায় রবিনহো জুনিয়রকে শারীরিক লাঞ্ছনা করেছেন—এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে সান্তোস। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড রবিনহোর ছেলে রবিনহো জুনিয়র গত মঙ্গলবার জানান, এজেন্টের উপস্থিতিতে 'প্রচণ্ড রাগের মাথায়' তিনি নেইমারের বিরুদ্ধে ক্লাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, নেইমার তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ করেন, ল্যাং মেরে ফেলে দেন এবং সজোরে গালে চড় মারেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রবিনহো জুনিয়র বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ঘটেছিল (গালে চড় মারার ঘটনা)। তবে সে তখনই বুঝতে পেরেছিল যে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এরপর সে বারবার আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং আমি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি যে আমি তার ক্ষমা গ্রহণ করেছি।’
১৮ বছর বয়সী রবিনহো জুনিয়র অবশ্য এই অভিযোগের পেছনে ক্লাব ছাড়ার কোনো উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। নিজের আইডল বা শৈশবের নায়কের কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে রবিনহো জুনিয়র যে বেশ মর্মাহত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট, ‘বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে, কারণ ছোটবেলা থেকেই নেইমার আমার আদর্শ। আমাদের আশেপাশের মানুষ এমন অনেক কথা বলছে যা সত্যি নয়; পুরো বিষয়টা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে দেখে খারাপ লাগছে। তবে আমি এখন ঠিক আছি। আমি তাকে খুব পছন্দ করি, আমাদের কথা হয়েছে এবং সব মিটে গেছে।’
বিপরীতে নেইমার মনে করেন, তাঁর নামের ভারের কারণেই বিষয়টিকে তিল থেকে তাল করা হয়েছে, ‘অবশ্যই এটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। বিশেষ করে এখানে ব্রাজিলে, যেখানে প্রতিদিন আমার নাম আলোচিত হয়। যারা ফুটবল খেলে তারা জানে যে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে—ঝগড়া, হাতাহাতি বা চড়-থাপ্পড়, যা-ই বলুন না কেন। এটাই ফুটবল, এটা খেলারই অংশ। মাঝে মাঝে বাইরের মানুষ যখন নাক গলায়, তখন তারা বিষয়টিকে বাস্তবতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে... যা শেষ পর্যন্ত নেতিবাচকভাবে বড় আকার ধারণ করে।’
সান্তোস কোচ কুকা অবশ্য দুই খেলোয়াড়ের এই দ্বন্দ্বে ক্লাবের মনোযোগ নষ্ট হওয়ায় বেশ বিরক্ত। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তা ঠিক হয়নি। যদিও এমনটা হতে পারে, তবে এটি এড়ানো যেত। আমরা এটাকে ফুটবলের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি না, কারণ এটি মোটেও স্বাভাবিক নয়। এখানে কে সঠিক? কেউ না। এমন পরিস্থিতিতে আসলে সবারই ক্ষতি হয়।’
কোচ আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে সান্তোসের, যার নাম ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমর্থকরা চায় দল জিতুক, ভালো খেলুক এবং গোল করুক; তারা এসব নেতিবাচক খবর অনুসরণ করতে চায় না।’
বিতর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক মাঠের পারফরম্যান্সও যাচ্ছেতাই নেইমারের দলের। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি সান্তোস।
এবি/টিএ
এবি/টিএ