© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার আর নেই

শেয়ার করুন:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০২ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ও গণমাধ্যম জগতের কিংবদন্তি খ্যাত টেড টার্নার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বুধবার সিএনএন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

টেড টার্নার পাঁচ সন্তান, ১৪ জন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। ১৯৮০ সালে টেড টার্নার ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন) প্রতিষ্ঠা করেন। দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ব্রেকিং নিউজ প্রচারের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত সম্প্রচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন। বিশেষ করে ১৯৯০-৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সিএনএন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী টার্নারকে তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামে ডাকা হতো। আটলান্টাভিত্তিক এই ব্যবসায়ী এমন এক মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন; যা ক্যাবল টিভির প্রথম সুপারস্টেশন তৈরি করে। জনপ্রিয় সিনেমা ও কার্টুন চ্যানেল তৈরির পেছনেও ছিল তার বড় ভূমিকা। গণমাধ্যমের পাশাপাশি তিনি খেলাধুলাতেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ‘আটলান্টা ব্র্যাভস’ নামের একটি দল কিনে নেন এবং দলটিকে আজকের আধুনিক রূপ দান করেন।

বিশ্বজুড়ে রিয়েল টাইমে ২৪ ঘণ্টা সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য তাকে গণমাধ্যমের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ২০১৮ সালে নিজের জন্মদিনের ঠিক এক মাস আগে তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘লুই বডি ডিমেনশিয়া’ নামক এক ধরনের মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত। ২০২৫ সালের শুরুতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

সিএনএনের চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন টার্নারকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা, সাহসী ও নির্ভীক। তিনি সবসময় নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখতেন। টেড টার্নার সিএনএনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন; তিনি সেই দানবীয় ব্যক্তিত্ব যার কাঁধে আমরা দাঁড়িয়ে আছি।

• দাতব্য কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি টেড টার্নার একজন বড় মাপের দানবীর ছিলেন। তিনি জাতিসংঘকে সহায়তা করতে ‘ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

এ ছাড়া তিনি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলের আন্দোলনে সক্রিয় এবং একজন পরিবেশ সংরক্ষণবাদী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে তিনি ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ নামক বিখ্যাত কার্টুন তৈরি করেছিলেন।

১৯৯১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে। সাময়িকীটি তখন লিখেছিল, ১৫০টি দেশের দর্শকদের ইতিহাসের তাৎক্ষণিক সাক্ষী বানানোর মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক ঘটনাবলিকে প্রভাবিত করেছেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি তার নেটওয়ার্ক ‘টাইম ওয়ার্নার’র কাছে বিক্রি করে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে সিএনএনকে তিনি সবসময় তার জীবনের ‘সেরা অর্জন’ হিসেবে গর্বভরে উল্লেখ করতেন।

সূত্র: সিএনএন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন