© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নয় মাসে ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

শেয়ার করুন:
নয় মাসে ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২০ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
ধারাবাহিক রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি বেড়েছে আমদানির ব্যয়। এতে করে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ার ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫৪৫ কোটি (১৫.৪৫ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট—বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে ৫ হাজার ১৫৬ কোটি (৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমকি ৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ৯ মাসে আমদানি হয়েছিল ৪৯ দশ‌মিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

অন্যদিকে আলোচিত সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখি থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে মা‌র্চ শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৮৭ কোটি ডলার।

ওভারঅল ব্যালান্স
সামগ্রিক লেনেদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। আলোচিত সময় সামগ্রিক লেনেদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় (ঋণাত্মক) ১১০ কোটি ডলার ঘট‌তি ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ২ হাজার ৬২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ২১৭৮ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ২০ দশমকি ৩ শতাংশ।

এফডিআই
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-‌মার্চ ১৩১ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা ১০০ কোটি ডলারে হ‌য়ে‌ছে।

ত‌বে আলোচিত দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নে‌মে‌ছে। অর্থবছরে প্রথম ৯ মা‌সে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১০ কোটি ৫০ ডলার।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন