বিজেপির শপথ অনুষ্ঠানে থাকছে ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার আয়োজন!
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৫ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যটি এখন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হয়েছে। এর জের ধরেই আগামী শনিবার (৯ মে) সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উদযাপনের অংশ হিসেবে ঝালমুড়ি রাখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ঝালমুড়ি। রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে বাজার বা রাজনৈতিক সমাবেশ, সব জায়গাতেই এর দেখা মেলে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার কাছে সহজলভ্য এই খাবারটির সাথে নিজেকে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী মূলত তৃণমূল মানুষের সাথে নিজের নিবিড় সংযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান বার্তা দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, নির্বাচনী রাজনীতিতে এর মাধ্যমে সরলতা ও গ্রহণযোগ্যতার মতো গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে।
মোদির এই পদক্ষেপ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল ভারতের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকেও সামনে এনেছে। এর সাথে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সহায়তায় নেওয়া 'পিএম স্বনিধি', 'ভোকাল ফর লোকাল' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর মতো জাতীয় উদ্যোগগুলোর পরোক্ষ মিল রয়েছে। এটি দেশীয় পণ্য ও স্বনির্ভরতার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও প্রতীক।
সাংস্কৃতিক প্রতীক ও আবেগ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মোদির এই ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্তটি কেবল একটি চমক নয়, বরং এটি রাজ্যের আর্থসামাজিক পালস বোঝার একটি কৌশল। আধুনিক ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার যুগে এমন মুহূর্তগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটারদের সাথে নেতৃত্বের একটি আবেগের সেতুবন্ধ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত, এই আখ্যানে ঝালমুড়ি কেবল একটি সাধারণ খাবার নয়: বরং এটি সহজলভ্যতা, অন্তর্ভুক্তি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামের একটি শক্তিশালী রূপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআই/এসএন