© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুর্নীতি করে ওয়াকফ সম্পত্তির নামমাত্র ভাড়া আদায় করা হচ্ছে: ধর্মমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
দুর্নীতি করে ওয়াকফ সম্পত্তির নামমাত্র ভাড়া আদায় করা হচ্ছে: ধর্মমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫২ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সারা দেশে ৬ লাখ ১৪ হাজার একরের মতো ওয়াকফ সম্পত্তি বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে নামমাত্র ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাজার দর অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওয়াকফে আওলাদে আছে ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাতে আছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর জমি। সম্পদ ওয়াকফের টোটাল সম্পত্তি হলো ৬ লাখ ১৪ হাজার একরের মতো। আসলে এত বড় বিশাল স্টেটের আমাদের এই সম্পত্তিগুলো অধিকাংশই এখন বেহাল অবস্থায় আছে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর যেভাবে তারা চালিয়েছে, তাদের কারণে আজকের এই ওয়াকফের অবস্থা খুব শোচনীয়।

এজন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ওয়াকিফরা (দানকারী) যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন- উনাদের উদ্দেশ্যটা যেন সুষ্ঠু সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। যাতে এখানে চুরি, দুর্নীতি বা কোনো অন্যায় থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্দেশ্য পূরণে যা যা করার আমরা করবো।

ওয়াকফে আওলাদ হলো মনে করেন আপনার একটা সম্পত্তি আছে, আপনি এটাকে ওয়াকফ করে ফেললেন।

তার মানে এটা কেউ বিক্রি করতে পারবে না, এই সম্পত্তিটা এভাবে থাকবে; কিন্তু এটার ইনকামটা বংশধররা পাবে। আর ওয়াকফে লিল্লাতে শর্ত থাকে যে ইনকামটা পুরোপুরি আল্লাহর রাস্তায় বা জনকল্যাণে ব্যয় হবে। আবার অনেক সময় শর্ত থাকে যে নির্দিষ্ট শতাংশ আওলাদ পাবে এবং বাকিটা লিল্লাহর জন্য যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

শাহ মোফাজ্জল হোসাইন আরো বলেন, গাউছিয়া মার্কেট একটা ওয়াকফ স্টেট। এটায় দোকানের সংখ্যা হলো ৫৮৮টি এবং একেকটা দোকানের আয়তন ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুট।

সেখানে মাসিক ভাড়া মাত্র ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ভাড়া ২ হাজার ২১৮ টাকা পর্যন্ত, যা আশেপাশের দোকানের তুলনায় কিছুই না। আবার চকবাজারের মসজিদে একটা দোকান আগে ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া ছিল, পরে কমিটি পরিবর্তনের পর সেটা ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরে এরকম প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি আছে যেগুলো লুটপাট করে খাওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হলো লুটপাট করে খাওয়া যাবে না। ওয়াকিফ যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে, চুরি বন্ধ করতে হবে এবং বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওয়াকফ প্রশাসক এরই মধ্যে মিটিং করেছেন, যাতে ভাড়া বর্তমান বাজার অনুপাতে করা যায়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যদি সেটা করতে পারি- ইনশাল্লাহ আপনারা তিন মাস পর ভালো কিছু শুনতে পাবেন।

তিনি আরো বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ভাঙার জন্য প্রয়োজনে নতুন আইন করা হবে। এ ছাড়া বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন