৪৯ বছরেও এত ফিট কীভাবে, নিজের ফিটনেস রহস্য জানালেন মল্লিকা
ছবি: সংগৃহীত
১২:২২ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
৪৯ বছর বয়সেও তাঁর মেদহীন পেট আর টোনড ফিগার দেখে অনেকেই অবাক। অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত (Mallika Sherawat) বলছেন, এর পেছনে নেই কোনও ম্যাজিক, নেই শর্টকাটও। আছে শুধু বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা অভ্যাস, নিয়ম আর নিজের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় জিমের ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এই শরীর আমি নিজেই গড়েছি।’ আর সেই এক লাইনেই যেন লুকিয়ে রয়েছে তাঁর ফিটনেস দর্শন। শুরু হয়েছে আলোচনা। বয়স বাড়লেও কীভাবে ফিট থাকা সম্ভব?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বদল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ৪০ পেরনোর পর মেটাবলিজম ধীরে ধীরে কমতে থাকে, পেশি ক্ষয় হয়, আর পেটের চারপাশে সহজেই মেদ জমতে শুরু করে। তাই এই বয়সে ফিট থাকা শুধু জিমে গিয়ে কয়েকদিন ব্যায়াম করলেই সম্ভব নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ।
মল্লিকার ফিটনেস রুটিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রয়েছে নিয়মিত শরীরচর্চা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে স্ট্রেংথ ট্রেনিং অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি পেশী শক্তিশালী রাখে এবং শরীরের ফ্যাট বার্ন করার ক্ষমতা বাড়ায়। কোর এক্সারসাইজ, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং ও কার্ডিও- শরীরকে টোনড রাখতে সাহায্য করে। শুধু ওজন কমানো নয়, শরীরের ভঙ্গি, শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়াতেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে।

তবে শুধু ব্যায়াম করলেই ফ্ল্যাট বেলি বা মেদহীন টানটান পেট সম্ভব নয়। খাবারের দিকেও সমান নজর দিতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি, প্রসেসড খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ফাইবার, তাজা ফল-সবজি এবং পর্যাপ্ত জল- এই অভ্যাসগুলোই দীর্ঘদিন শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মল্লিকাও বরাবর ‘ক্লিন ইটিং’-এ বিশ্বাসী। অর্থাৎ, না খেয়ে নয়, বরং সঠিক খাবার খেয়েই শরীরকে ফিট রাখা সম্ভব।
ঘুম এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টও তাঁর ফিটনেসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মানসিক চাপ বা কম ঘুম শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা পেটের মেদ জমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়। তাই মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণও ফিট থাকার জন্য সমান জরুরি।
মল্লিকা শেরাওয়াতের এই ফিটনেস শুধু সৌন্দর্যের গল্প নয়, বরং এক ধরনের জীবনদর্শন। যেখানে বয়স কোনও বাধা নয়, যদি নিজের শরীরের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। তাঁর কথায়, রাতারাতি কোনও বদল সম্ভব নয়, মেদহীন সুস্থ শরীরের জন্য কোনও ম্যাজিক নয়, দরকার ধৈর্য, নিয়ম আর প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস।
টিজে/টিএ