উদ্যোক্তা ও আধুনিক ‘ব্যক্তি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শ্রদ্ধা : মাহফুজ আলম
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫১ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা ও আধুনিক ‘ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শ্রদ্ধা রইল।
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য যতটা পড়েছি, তারচেয়ে বেশি পড়েছি তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাময়িকপত্র, বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে। সেখানে ব্রাহ্ম রবীন্দ্রনাথ, উপনিষদীয় অথচ আধুনিক রবীন্দ্রনাথের দেখা মিলে।
ঔপনিবেশিক আধুনিকতা আর ভারত সভ্যতার প্রতি নিষ্ঠা দুই মিলে রবীন্দ্রনাথ তাঁর চিন্তাবিশ্ব সাজিয়েছেন।
মুসলিম সমাজের জড়তা-স্থবিরতার অপরপাশে সৃজনশীল ও উদ্যোগী রবীন্দ্রনাথ এজন্য ছায়া ফেলেছেন মুসলিম সমাজের মনেও। ফলে, রবিঠাকুরের ‘অপর’ সে মুসলিম কবি-সাহিত্যিক বর্গ কখনো সন্ধি করেছেন আবার কখনো তর্ক করেছেন। সেসব তর্ক স্থানচ্যুত হিসাবে দেখার ফলে রবিঠাকুরের আধুনিকতা ও ভারত সভ্যতার সম্মিলন ঘটানোর শক্তি দেখার বদলে মুসলিম সমাজ অনেক সময় ব্যয় করেছে নেতিবাচক চিত্তবিহারে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন এ করেননি, ওই করেননি- এসবই মুসলিম সমাজের জড়তা-স্থবিরতা আর হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। বরং, আজও এ প্রশ্ন রয়ে যায় যে, বাঙালি মুসলমানের ঘরে এ উদ্যোগী ও ‘ব্যক্তি’ হয়ে ওঠার সাধকের দেখা মিললে তাঁকেও কি ‘কাফের’ ফতোয়া দেওয়া হবে? তাঁকেও কি নবাবদের দরবারে গিয়ে ক্ষমাভিক্ষা করতে হবে?
পুনশ্চঃ রবিঠাকুরের কালপর্বেই মুসলিম উদ্যোক্তা-রাজনৈতিক মধ্যবিত্ত বর্গের উন্মেষ ঘটেছে। তাঁর চোখের সামনেই শেরে বাংলা ক্ষমতাসীন হয়েছেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সামনে নিম্নবর্গ ও প্রজা মুসলমানের সে উন্মেষ কিভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বর্গের কাছে পাকিস্তান আমলে পরাস্ত হলো এবং সে সাহিত্যিক-সামাজিক-রাজনৈতিক উন্মেষ কিভাবে একটা চরম জাতীয়তাবাদী চিন্তায় আবদ্ধ হয়ে গেল- সেসব তর্ক কার্পেটের তলে ফেলে দিলেই নাই হয়ে যাবে না।
বারবার ইতিহাসের নানা বাঁকে সেসব প্রশ্নই সামনে চলে আসবে।
উদ্যোক্তা ও আধুনিক ‘ব্যক্তি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শ্রদ্ধা রইল।”
টিজে/টিএ