© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চালু হতে যাচ্ছে দৌলতদিয়ায় ৫নং ফেরিঘাট

শেয়ার করুন:
চালু হতে যাচ্ছে দৌলতদিয়ায় ৫নং ফেরিঘাট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪৪ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে পরিত্যক্ত ৫নং ফেরি ঘাটটি দীর্ঘ ৪ বছর পর পুনঃনির্মাণের কাজ চলছে। ৫নং ফেরি ঘাটটি চালু হলে দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে যাত্রী ও যানবাহন সহজেই নদী পার হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে পারবে।

পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন ও নাব্যতা সংকটের কারণে চার বছর আগে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন পারাপারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে অন্য ঘাটগুলোতে। বিশেষ করে ঈদ ও বিভিন্ন ছুটির সময়ে ভোগান্তিতে পড়তে হতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘাটটি পুনরায় চালু হলে ফেরি পারাপারে গতি বাড়বে, কমবে যানজট ও অপেক্ষার সময়। একই সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।

জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও ১, ২,  ৫ ও ৬নং ফেরিঘাটটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। এর মধ্যে ১ ও ২নং ঘাট দীর্ঘদিন যাবৎ কয়েকটি সিমেন্ট কোম্পানির দখলে রয়েছে। সেই ২টি ঘাট ব্যবহার করে প্রতিদিন সিমেন্ট লোড-আনলোডে কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে কোনো মাথাব্যথা নেই ঘাট কর্তৃপক্ষের। প্রতিব ছরে এই ঘাট সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ আসলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারের কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন এভাবেই খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। 

দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে মাত্র ৩,৪ ও ৭নং এই তিনটি ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করে আসছে বিআইডব্লিউটিসি। ২০২২ সালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর কবলে ৫নং ফেরি ঘাটটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। সেখান থেকেই ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৪ বছর পর নতুন করে ৫নং ফেরিঘাটটি পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে। এই ঘাটটি চালু হলে যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে। সহজেই দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হতে পারবে যানবাহন ও যাত্রীরা। 

দৌলতদিয়া ৫নং ফেরিঘাটে মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ জরাজীর্ণ অবস্থায় দৌলতদিয়া ৫নং ফেরি ঘাটটি বন্ধ ছিল। ঘাটটি নতুন করে সংস্কারের কাজ করছে। এই ঘাটটি চালু হলে সহজেই যানবাহন ও যাত্রীরা নদীর পারাপার করতে পারবে। এতে করে ৫নং ফেরিঘাট এলাকাটি জাঁকজমক হয়ে উঠবে। ঘাটের দু পাশে দিয়ে খাবার হোটেল ও ছোট দোকান গড়ে উঠবে। এখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সবুজ হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, দৌলতদিয়া বর্তমানে ৩টি ঘাট চালু রয়েছে। এখন যদি এর সঙ্গে ৫নং ঘাটটি যোগ হয় তাহলে ৪টি ঘাট হবে। আর ৪টি ঘাট যদি চালু থাকে তাহলে এই নৌরুট দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই নদী পারাপার হতে পারবে। এই ঘাটটি আরও আগে চালু হওয়া উচিত ছিল। আমি প্রতিমাসে একবার করে এই ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হয়ে ঢাকায় ব্যবসায়িক কাজে যাই।
 
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০২২ সালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর কবলে ৫নং ফেরিঘাটে নদী ভাঙন শুরু হয়। সে সময় প্রচণ্ড নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘাটটি আর ঠিক করা হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ ৫নং ঘাটটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় ঘাটটির পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ঘাটটি চালু হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে। খুব সহজেই যানবাহনে যাত্রীরা নদী পারাপার হতে পারবে। বর্তমানে এই নৌরুট তিনটি ঘাট ব্যবহার করে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে করে থাকে।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন