যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পরিবর্তনের সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২০ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তা দুটি দেশের মধ্যে। এটা দুই ব্যক্তির কোনো চুক্তি নয়। দুটি রাষ্ট্র কোনো চুক্তি করলে- তা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যায় না। দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তবে চুক্তির বাস্তবায়নের সময় এমন কিছু যদি দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, এমন ধারা পরিলক্ষিত হয়- তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই আছে।
শুক্রবার সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তির মধ্যে বিভিন্ন ধারা থাকে। কিছু ধারা একটি পক্ষের অনুকূলে যায়। কিছু ধারা অন্যপক্ষের। দুইপক্ষের একটা উইন উইন সিচুয়েশন থাকে। এটি মিলিয়েই তো চুক্তি।
সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য অন্য দেশের তুলনায় খুবই সামান্য বেড়েছে। এটির ফলে পণ্য মূল্যের ওপরে যে প্রভাব তা এককালীন। এ কারণে মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হবে না এবং তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিরও হবে না।
তিনি বলেন, যে পরিমাণ ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্য মূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। এই সুযোগ নিয়ে কেউ যদি বাজার কারসাজির চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি খামার থেকে ১০ হাজার ডিম আনেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ইস্যু করে ডিমের দাম ১ টাকা করেও বাড়ান তা তো যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণ, জ্বালানির যে হারে দাম বেড়েছে তাতে পরিবহণ ভাড়া তো ১০ হাজার টাকা বাড়ার কথা না।
সরকারি কল-কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায় সেখানেই নানা কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়। সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব মিল-ফ্যাক্টরি চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে। রোপ ব্রিজ থাকবে। এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউটি/টিএ