© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল পুলিশ, অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি: আইজিপি

শেয়ার করুন:
বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল পুলিশ, অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৭ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
পুলিশ বাহিনী বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল, তবে বাহিনীকে এখন অনেকাংশে গুছিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, আমাদের (পুলিশের) একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। সেটা অনেকাংশে আমরা গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই পুলিশ উইক (সপ্তাহে) পুলিশকে আরও সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের অন্য যারা আছেন, তারা আমাদের নির্দেশনা দেবেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে পুলিশ আশা করে, সবার সহযোগিতায় আমরা সেই পুলিশ গড়ে তুলতে পারব।

শুক্রবার (৮ মে) ৩০০ ফিট এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এই এলাকায় আবাসিক এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ফলে খিলক্ষেত থানা এলাকায় গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে একটি দ্রুত বর্ধনশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। খিলক্ষেত থানার বর্তমান অবস্থান এবং সম্প্রসারিত এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ সেবা জনগণের পৌঁছে দিতে বরুয়া এবং আশপাশ এলাকায় একটি পুলিশফারি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যা পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকা মহানগরী সংযোগ স্থাপন করেছে। এর আশেপাশে অবস্থিত নামাপাড়া, পাতিরা, ডুমনি, বরুয়া ও তলনা এলাকাগুলো প্রশাসনিকভাবে খিলখেত থানার আওতাভুক্ত হলেও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো থানা থেকে তুলনামূলক দূরবর্তী। এই এলাকাগুলো পূর্বাচল নতুন শহরের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাণিজ্যিক জোন এবং একাধিক সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এই এলাকায় একটি পুলিশফারি স্থাপন খিলক্ষেত থানার কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ ও কার্যকর করবে।

আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, তলনা এলাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন আবাসিক প্রকল্প বসতি স্থাপন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ঘিরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৎপর পরিপ্রেক্ষিতে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যোগাযোগ হাব হওয়ায় এলাকাটি মাদক পরিবহন ও লেনদেনের জন্য একটি সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের পাশাপাশি এসব এলাকাগুলোতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেড়েছে। ফলে অস্ত্র মাদক ব্যবহারসহ সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অধিকন্ত ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশ এলাকায় রাত্রিবেলায় বিনোদন কর্মী মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক শক্তিশালী পুলিশি উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে চুরি ছিনতাই এর সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে বর্তমানে একটি ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যানবাহনের দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। খিলক্ষেত থানা থেকে এই এলাকাগুলো দূরে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এই এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

আইজিপি বলেন, তাছাড়া গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও দূরত্বের কারণে যাতায়াত খরচ, সময়ের স্বল্পতা ও নানান কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা থানায় গিয়ে পুলিশি সেবা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। যার কারণে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। পুলিশি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা যাবে যাতে অপরাধ সংগঠনের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য বিশ্বাসযোগ্য এবং সবার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন