যাত্রাবাড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলাউদ্দিন মানিক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৯ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৈরি করা চাঁদাবাজদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল চারটার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজ বাসা ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর আলাউদ্দিন মানিককে যাত্রাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়েছে।
থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আলাউদ্দিন মানিক দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
তার বিরুদ্ধে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকের সঙ্গে তার ভাই বিল্লাল ওরফে ‘হাইড্রোলিক বিল্লাল’, সুমন ও রোমান মিলে সায়েদাবাদ এলাকায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। স্থানীয়ভাবে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও পরিবহন ব্যবসাকেন্দ্রিক এই চক্রের আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সায়েদাবাদ এলাকায় তাদের ‘শফি মটরস’ নামে একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত দামে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হতো।
এছাড়া তাদের দোকান থেকে মালামাল ক্রয় না করলে সংশ্লিষ্ট বাস কাউন্টার ও কর্মচারীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটত। ভুক্তভোগীদের করা একাধিক জিডি পর্যালোচনায় একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক লেনদেন বা মালামাল কেনাবেচা নিয়ে সামান্য বিরোধ তৈরি হলেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে গিয়ে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেন।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি জিডিতে বলা হয়, সায়েদাবাদ এলাকায় মালামাল ক্রয়কে কেন্দ্র করে কয়েকজনের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রোলিক বিল্লাল, রোমান ও সুমনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া গত ৩১ মার্চ দায়ের করা আরেকটি জিডিতে উল্লেখ করা হয়, এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রোলিক বিল্লাল ও সুমনসহ আরও কয়েকজন। পরে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মানিকের ছোট ভাই সুমন ব্যবসায়ী নুর আলম আজাদকে মারধরের পর তার শরীরে গরম চা নিক্ষেপ করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ হামলার পেছনে আলাউদ্দিন মানিকের নির্দেশনা ছিল। দগ্ধ অবস্থায় তাকে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানিক চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ থাকলেও মামলা ও জিডির পরও তাদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
ইউটি/টিএ