হাসিনা দিছে যাবজ্জীবন, আর আল্লাহ বানালেন মন্ত্রী: ধর্মমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৯ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, হাসিনা আমারে যাবজ্জীবন সাজা দিছে, আর আমার আল্লাহ আমারে মন্ত্রী বানাইছে। আল্লাহ যা চান তাই হয়। গত এক যুগে আপনারা কি চিন্তা করছেন—আমি আবার দেশে আসতে পারব, নির্বাচন করব, এমপি হব, মন্ত্রী হব? আমি যাতে নির্বাচন করতে না পারি সেজন্য মামলাও দিছে। কিন্তু আল্লাহ সব ষড়যন্ত্র শেষ করে দিয়ে আপনাদের ভোটে এমপি বানাইছে, তারেক রহমান সাহেবরে দিয়ে মন্ত্রী বানাইছে।
শুক্রবার (৮ মে) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা থানার পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়ায় মসজিদুল কুবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি সমাজের ব্যাধি। প্রশাসন ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করেছে। অভিযান চলবে। যে দল বা মতেরই হোক, মাদককারবারী ও চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে সকালে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেন ধর্মমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষক কার্ডসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি কৃষকের হাতে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ইমাম-মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানিভাতা চালু করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। এ সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
এ দিন বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন এবং বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’র আওতায় মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে মোট ১৬৭টি কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল বেড প্ল্যান্টার, ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, সেচ পাম্প ও ধান মাড়াই যন্ত্র।
এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির উপকরণ বিতরণ করা হয়। সৌদি আরব প্রবাসী মামুন সরকারের উদ্যোগে এই মসজিদুল কুবা নির্মাণ করা হয়েছে।
কেএন/টিএ