© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মমতার সেনাপতি থেকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শেয়ার করুন:
মমতার সেনাপতি থেকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০০ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি থেকে ঘোর বিরোধী হয়ে ওঠা শুভেন্দু অধিকারী আজ শনিবার (৯ মে) রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

বিদায়ী তৃণমূল সরকারকে হঠিয়ে বিজেপির এই জয় এবং শুভেন্দুর ব্যক্তিগত উত্থানকে ভারতের সমকালীন রাজনীতির অন্যতম বৃহৎ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন শুভেন্দু। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি যা করলেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অসাধ্য সাধন বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল নেত্রীকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের দ্বিতীয় কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটে হারিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

৫৫ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রভাবশালী মুখ মনে করা হতো তাকে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তার ভূমিকা বাম শাসনের অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিল। ২০২০ সালে তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। গত পাঁচ বছর বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মমতা সরকারকে রাজপথে ও আইনি লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত চাপে রেখেছেন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডে সংবাদে বলা হয়েছে 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বামপন্থিদের বিরুদ্ধে রাজপথের কঠিন লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে বিজেপির উত্থানের প্রধান মুখ হয়ে ওঠা শুভেন্দুর সফর এখন শিখরে।"

পূর্ব মেদিনীপুরের প্রভাবশালী অধিকারী পরিবারের সন্তান শুভেন্দু ১৯৯৫ সালে কাউন্সিলর হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। তার বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তমলুকের সাংসদ এবং ২০১৬ সালে বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

তবে এই উজ্জ্বল সফরের সমান্তরালে রয়েছে বিতর্কের ছায়াও। ২০১৪ সালের সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা ২০২৪ সালে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তার করা কিছু তীব্র মন্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং বিভক্ত জনমতকে একত্রিত করে রাজ্যের স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনা। আজ ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকেই এখন নজর গোটা ভারতের।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার

টিজে/টিএ

মন্তব্য করুন