এটা আমাদেরই গল্পবাবার পর মায়ের বিদায়,ফাহাদ কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন?
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৮ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
‘এটা আমাদেরই গল্প’ -এর ৪৯তম পর্ব চলাকালেই ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মৃত্যু হয় ফাহাদের বাবার। গল্প অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের বাড়ি বিক্রির ঘটনাই ছিল এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ। সারাজীবনের স্মৃতিমাখা প্রিয় বাড়ি হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে শহর ছেড়ে পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে যান তিনি। তার মনের গভীরে তৈরি হয় গভীর এক ক্ষত। কারণ, তিনি জানতে পারেন তার বড় ছেলে ফাহাদই দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়ানো সেই বাড়িটি গোপনে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।
চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাহাদের বাবা। একদম শেষ সময়ে পরিবারের সবাইকে কাছে ডাকেন। মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে স্মরণ করে ফাহাদকে, যদিও সেখানে ফাহাদ ছিল না। স্পষ্ট না হলেও ইঙ্গিত দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিল, ফাহাদের আঘাত তিনি নিতে পারছেন না। এরপরই না ফেরার দেশে চলে যায় ফাহাদের বাবা। বাবার সেই শেষ বিদায়ের খবরটিও জানতে হয়েছে ফারহানার ফেসবুক পোস্ট থেকে।
বাড়ি ফেরার পর ফাহাদ যখন মায়ের মুখোমুখি হয়, সেখানে এক ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিজের স্বামীকে হারানোর শোকে স্তব্ধ মা ফাহাদকে সরাসরি এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে। তবে ৫২তম অর্থাৎ মেগা এপিসোডের অন্তিম পর্বে গল্পের ইতি এমন কষ্টদায়ক হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি দর্শক। পর্বের শুরুতে ছিল বিয়ের আমেজ, উৎসবমুখর পরিবেশ। ফাহাদের ফুফুর বিয়েতে সবাই যখন আনন্দে মেতেছিল, তখনই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
সাধারণত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে যে মমতার টান থাকে, তা ফাহাদের স্ত্রী সায়রা ও তার শাশুড়ির মধ্যেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দঘন পরিবেশ বিষাদে রূপ নেয় ফাহাদের এক নারী সহকর্মীকে নিয়ে। সে বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে ফাহাদকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ফাহাদ সেই সহকর্মীকে আলিঙ্গন করে যখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন আড়াল থেকে তা ভিডিও করা হয়।
সেই ভিডিও সায়রার নজরে আসতেই পুরো বিয়ে বাড়িতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। সায়রা রাগের মাথায় সেই সহকর্মীকে চড় মারে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নিজের প্রিয় পুত্রবধূর এই কষ্ট সইতে না পেরে এবং পরিবারের এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড মানসিক চাপে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ফাহাদের মা-ও।
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেছিলেন, ‘এটা আমাদেরই গল্প’, যা আমাদের সবার পরিবারের সঙ্গে মিশে থাকে। দর্শক ও সমালোচকদের মতে, এমন ঘটনা আমাদের সমাজের অনেক পরিবারেই ঘটে, যা হয়তো সবসময় সামনে আসে না। নাটকটি শেষ হলেও এর রেশ এখনও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। মুক্তির মাত্র ২১ ঘণ্টার মাথায় এটি ৯৮ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে সায়রার সংলাপ- ‘আর কী করলে আমাকে ভালোবাসবা?’ এবং মায়ের বলা শেষ কথাগুলো দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেছে।

বোদ্ধাদের মতে, ফাহাদের চরিত্রটি যেন আমাদের সমাজের সেই সব মানুষের প্রতিচ্ছবি যারা নিজেদের অজান্তেই প্রিয়জনদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক ফাহাদের কারণেই আজ তার বাবা ও মা দুজনকেই হারাতে হলো। মানুষের ভুল বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মাঝেমধ্যে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে আর ফেরার পথ থাকে না। ফাহাদের সামনে এখন শুধুই শূন্যতা। দিনশেষে দর্শকদের মনে এখন একটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে- ফাহাদ কি আদৌ কোনোদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে?
ধারাবাহিকটিতে ফাহাদের মায়ের চরিত্রে মনিরা আক্তার মিঠুর অভিনয় ছিল নজর কাড়ার মতো। দর্শকদের মতে, তিনি একজন জাত অভিনেত্রী। এছাড়া ফাহাদের চরিত্রে অভিনয় করা ইরফান সাজ্জাদ, সামির চরিত্রে খায়রুল বাসার, মেহেরীন চরিত্রে কেয়া পায়েল, সায়রা চরিত্রে সুনেরাহ বিনতে কামালসহ বাকিদের অভিনয় ছিল অনবদ্য।
এসএ/টিএ