২২ দিনের লড়াই শেষে হামের কাছে হার মানলো ৪ মাসের সাফওয়ান
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৯ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ দিনের লড়াই শেষে চার মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল সাফওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেড় বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল্লাহ মো. রাসেল। চার মাস আগে তাদের সংসারে জন্ম নেয় সাফওয়ান। সীমিত আয়ের পরিবার হলেও নবজাতককে ঘিরে তাদের আনন্দের কমতি ছিল না। সন্তানের ছোট ছোট মুহূর্ত, হাসি-কান্না ও নড়াচড়া স্মৃতিতে ধরে রাখতে মা নিয়মিত ভিডিও ধারণ করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২২ দিন আগে সাফওয়ানের জ্বর ও কাশি শুরু হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে ১৯ এপ্রিল বিকেলে তাকে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিন সন্ধ্যায় শিশুটির শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসক জানান, এটি হামের লক্ষণ এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন।
তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেনি। সেদিন রাতেই তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরদিন স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে আবার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
২১ এপ্রিল গভীর রাতে সাফওয়ানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন পর তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সন্তানের চিকিৎসার পাশাপাশি খরচ জোগাতে চরম সংগ্রাম শুরু করেন বাবা-মা। বিভিন্নজনের কাছে সহায়তা চান তারা, ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতাও চাওয়া হয়। একজন চিকিৎসক তিন হাজার টাকা এবং আরেকজন দুই হাজার টাকা সহায়তা করেন। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার টাকা ধার করতে হয় পরিবারটিকে।
দীর্ঘ ২২ দিনের চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মাস ১০ দিন বয়সী সাফওয়ান মারা যায়। ওইদিন এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার বাবুর হাসিমাখা মুখ কখনো ভুলতে পারব না। সে আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিত। বড় হলে তাকে দেখাব বলে তার ভিডিও করে রাখতাম। কিন্তু আমার নিষ্পাপ সন্তানটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”
টিকে/