আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৬ এএম | ১০ মে, ২০২৬
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি ও তিন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে ‘জিতিয়ে আনা’ হবে না। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।সেখানেই প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন হতে পারে।
ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর তিন সহযোগী সংগঠন- যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বড় পরিসরে এটি ছিল বিএনপির প্রথম কোনো সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা। যেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল- এই তিন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন করে শীর্ষ নেতাকে মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মতবিনিময় সভা বেলা পৌনে ১১টায় শুরু হয়ে রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত চলে। মাঝখানে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি ছিল। রুদ্ধদ্বার এ সভায় ১১ জন মন্ত্রী বক্তব্য ও নেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিএনপি ও তিন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের প্রায় এক হাজার নেতা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা- দুই ক্ষেত্রেই ‘কঠোর ও সুশাসনমুখী’ অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, ভালো আচরণ করে মানুষের মন জয় করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশাল জানাজার কথা সামনে আনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাঁদের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান তাঁকে ও বিএনপিকে দিতে হবে। এর জন্য নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি কাউকে জিতিয়ে আনতে পারবেন না। মাঠে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করেই সবাইকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো প্রশাসনিক প্রভাব বা দলীয় সুবিধা দিয়ে কাউকে জিতিয়ে আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতা–কর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এই মতবিনিময় সভার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের মনোভাব। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাসহ মাঠপর্যায়ের নেতারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি তোলেন। একজন নেতা জিয়াউর রহমানের সময়কার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত। সে ধরনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আস্থার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এবং সেটা এই পুলিশকে দিয়েই সম্ভব।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এর জন্য যা যা করার করা হবে। এ ক্ষেত্রে কারো পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যার যার ভুলত্রুটি আছে, তাদের শুধরে নিতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলায় শিথিলতার ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে তাঁর কাছে অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা সহজ করে দেওয়া হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও এখন থেকে কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। সামনে আর সহজ করে দেখা হবে না, কঠিনভাবেই দেখা হবে। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ কমিয়ে আনতে হবে।
এমআর/টিএ