যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া সহজ হবে না: ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৯ এএম | ১১ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে রোববার (১০ মে) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে ইরানের তেল পরিবহন, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের ক্ষেত্রে তেহরানকে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করে ওয়াশিংটন।
এর জবাবে ইরানের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে যারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে, তাদের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে গিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছে তেহরান। এখন থেকে এ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদন নিতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও টোল আদায়ের নতুন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
শিপিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্যে 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি' নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে ইরান। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফরমও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অবস্থানের পক্ষে যেসব দেশ দাঁড়াবে, তাদের জন্য পরিণতি সুখকর হবে না।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা টোল থেকে প্রথমবারের মতো রাজস্ব আয় করেছে তেহরান।
বর্তমানে সীমিতসংখ্যক জাহাজকে এই নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে কৌশলগত এই নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসকে/এসএন