‘১০ বছরের প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করতে চান স্টারমার
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৯ এএম | ১১ মে, ২০২৬
স্থানীয় নির্বাচনে নিজ দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজ দলের অনেক নেতা তার পদত্যাগ দাবি করলেও স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই সরছেন না। বরং নিজের সরকারকে তিনি একটি ‘১০ বছরের প্রকল্প’ হিসেবে দেখছেন এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
গত তিন দশকের মধ্যে এবারই স্থানীয় নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি।
এর ফলে নিজ দলের ভেতর থেকেই স্টারমারকে সরানোর দাবি উঠেছে। সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট হুমকি দিয়েছেন যে, স্টারমারকে সরানো না হলে তিনি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটির ডাক দেবেন। আইন অনুযায়ী, দলের ৮১ জন সংসদ সদস্য সই করলে স্টারমারের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ জন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা শুরু করেছেন।
সব বিতর্ক ও চাপের মুখেও স্টারমার অনড়। রবিবার (১০ মে) এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই মাসে জনগণ যে কাজের জন্য আমাকে নির্বাচিত করেছে, আমি তা থেকে সরে যাব না। আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেব না।’ অর্থাৎ আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দলের ভেতরে বিদ্রোহ দেখা দিলেও স্টারমারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এখনো তার পাশেই আছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন জানিয়েছেন, সোমবার (১১ মে) এক ভাষণের মাধ্যমে স্টারমার দেশের জন্য একটি ‘নতুন দিকনির্দেশনা’ তুলে ধরবেন।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সোমবারের ভাষণের ওপর ঝুলে আছে। যদি স্টারমারকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়, তবে ব্রিটেন গত দশ বছরে তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রীকে পাবে। অন্যদিকে, যদি তিনি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেন, তবে তিনি মার্গারেট থ্যাচার ও টনি ব্লেয়ারের পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন।
ইউটি/টিএ