১০ বছরের মেয়েকে নিয়েই নতুন জীবন শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী বিদিপ্তা!
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫১ এএম | ১১ মে, ২০২৬
টলিউডের অন্যতম আলোচিত দম্পতি বিদিপ্তা চক্রবর্তী ও বিরসা দাশগুপ্ত। বয়সের ফারাক, সম্পর্কের সমীকরণ কিংবা সংসারের গল্প সবকিছু নিয়েই বরাবর খোলামেলা এই তারকা জুটি। তবে বিরসার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার আগে বিদিপ্তার জীবনে ছিল আরেকটি অধ্যায়, যা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমাজের প্রচলিত ধারণা নিয়ে সরব হন বিদিপ্তা। অভিনেত্রীর প্রশ্ন, শুধু শাঁখা-সিঁদুর পরে সংসার সামলালেই কি একজন নারী ‘ভালো বউ’ হয়ে ওঠেন? তাঁর কথায়, ছোটবেলা থেকে নিজে উপার্জন করেছেন, দুই মেয়েকে বড় করেছেন, বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এগুলোও সমানভাবে একজন ভালো মানুষ ও ভালো মেয়ের পরিচয়।
২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি আইনি বিয়ে করেন বিদিপ্তা ও বিরসা। তবে তার কয়েক বছর আগেই প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রীর। বিদিপ্তার প্রথম স্বামী ছিলেন চিত্রগ্রাহক শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিউডে যিনি ‘লালু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ভালোবেসেই তাঁদের সংসার শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
প্রথম সংসার ভাঙার পর জীবনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছিলেন বিদিপ্তা। সেই সময়ই তাঁর জীবনে আসেন বিরসা। অভিনেত্রীর প্রথম পক্ষের মেয়ে মেঘলার বয়স তখন প্রায় ১০ বছর। কিন্তু মেয়েকে শুধু নিজের পদবি দেননি বিরসা, বাবার মতো করেই বড় করেছেন। মেঘলাও মন থেকে আপন করে নিয়েছে তাঁকে। এখনও বাবাকে ‘বাবুই’ বলেই ডাকেন তিনি।
পরে বিদিপ্তা ও বিরসার সংসারে আসে তাঁদের দ্বিতীয় কন্যা ইদা। দুই মেয়েকে নিয়েই এখন সুখের সংসার তাঁদের।

বিদিপ্তার সঙ্গে বিরসার সম্পর্কের গল্পটাও যেন সিনেমার মতো। বিরসার মা চৈতালি দাশগুপ্তকে ‘কেয়া পিসি’ বলেই ডাকেন অভিনেত্রী। সেই সূত্রে আগে থেকেই পরিচয় ছিল বিরসার সঙ্গে। বয়সে প্রায় সাড়ে ছয় বছরের ছোট বিরসাকে একসময় আদর করে গাল টিপেও দিয়েছেন বলে মজা করে জানিয়েছিলেন বিদিপ্তা।
অভিনেত্রীর কথায়, বোলপুরের পৌষমেলাতেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। তখন দুজনেই ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। একদিকে বিদিপ্তার বিবাহবিচ্ছেদ, অন্যদিকে বিরসার প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা। সেই সময় একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে নিতেই তৈরি হয় নতুন সম্পর্ক।
এক সাক্ষাৎকারে বিদিপ্তা বলেছিলেন, পৌষমেলায় যেদিন বিরসা তাঁর হাত ধরেছিলেন, সেই হাত আজও ছাড়েননি। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তাঁদের ভালোবাসার বন্ধন এখনও অটুট।
পিআর/টিকে