ভারতীয় গণমাধ্যমকে তামিম ইকবাল‘বাংলাদেশে কখনোই ভারতের জন্য হুমকি ছিল না, তারা এলে স্টেডিয়াম ভরে যায়’
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫৪ এএম | ১২ মে, ২০২৬
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। যাকে কেন্দ্র করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় বিসিবির বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ তকমাও পেতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশে কখনোই ভারতীয় দলের জন্য নিরাপত্তা হুমকি ছিল না বলে মনে করেন তামিম। তার দাবি– দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সেরা উপায় হবে একটি সিরিজ।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক, বিসিবির দুর্বলতা, দায়িত্বে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, আইসিসির শক্তি-প্রভাব ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিসিবি-বিসিসিআইয়ের মাঝে সৃষ্ট বিরোধ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে।
ওই কথোপকথনে সাংবাদিক শ্রীরাম ভিরা প্রায় ভেঙে পড়া বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের সম্পর্ক পুনর্গঠনে তামিমের উদ্যোগ জানতে চান। এ নিয়ে বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে সম্ভবত আমিই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিগত কমিটি বিষয়টি যেভাবে সামলেছে, সেটা ঠিক হয়নি। আইসিসি নমনীয় ছিল, সমাধানের সুযোগ ছিল। আমাদেরও উচিত ছিল সেই সমাধান খুঁজে বের করা।’

তার দাবি ‘আমি ১৯৯৬-৯৭ সালের কথায় ফিরতে চাই। কেনিয়ার বিপক্ষে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে জায়গা পেতে আমরা অনেক লড়াই করেছি। আমার বাড়ির চারপাশ রঙিন পানিতে ভেসে গিয়েছিল। রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছিল মানুষ। সেই উদযাপনই শিশুদের ক্রিকেটে টেনে আনে, সবাই হতে চেয়েছিল মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাহমুদ, আকরাম খান। আর আমরা সঠিক কোনো আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপে খেলা ছেড়ে দিলাম। ওই দলে এমন খেলোয়াড়ও থাকতে পারে, যারা আর কখনও বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না। বিষয়টি আমি ভালোভাবে নিতে পারিনি।’
‘বিসিসিআইয়ের বিষয়ে বললে- বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি মিথুন মিনহাসের সঙ্গে আমি অনেক খেলেছি। আইপিএলে আমরা একই দলে ছিলাম, তিনি বহুবার ঢাকায় লিগ খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন। আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। এই দায়িত্বে আসার পর এখনও তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসা হয়নি, তবে আমি তাকে ভালোভাবেই চিনি। বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দারুণ। কোনো সমস্যা নেই, কোনো নিরাপত্তা হুমকিও নেই, ভারতীয় দলের জন্য তো কখনোই ছিল না। তারা এখানে এলে পুরো স্টেডিয়াম ভরে যায়। মানুষ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো বাস্তব সমস্যা আছে। বাংলাদেশে একটি সিরিজ আয়োজনই হতে পারে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার সেরা উপায়।’
বাংলাদেশের সর্বশেষ বিশ্বকাপ না খেলায় পাকিস্তানের সংহতি ও টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সতর্ক জবাব দিলেন তামিম, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য কঠিন। আমি মূল আলোচনার অংশ ছিলাম না। তবে আমি এটুকু বলব যাই ঘটুক না কেন, আমরা একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারিয়েছি। আমাদের কিছু খেলোয়াড় হয়তো আর কখনও সে সুযোগ পাবে না। আমার কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
‘আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ’র সঙ্গে এখনও এই ভূমিকায় সাক্ষাৎ হয়নি, তবে অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারের কাছ থেকে তার সম্পর্কে ভালো কথাই শুনেছি। খেলোয়াড় থাকাকালেও, এখনও আমি আইসিসিকে একটি পরিবারের মতো দেখি। এখানে ১২-১৫টি দেশ একসঙ্গে আছে। আমাদের একে অপরের খেয়াল রাখতে হবে। আমি সত্যিই মনে করি না, যেসব দলের কথা বলা হচ্ছে তারা আমাদের ক্ষতি চায়। ক্রিকেটকে ক্রিকেটই থাকতে দেওয়া উচিত’, আরও যোগ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই প্রধান।
কেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটি গঠনের প্রয়োজন হলো তা বাইরের অনেকে বোঝেন না বলে মন্তব্য ভারতীয় সাংবাদিকের। তার কথার সূত্র ধরে তামিম বলেন, ‘আগের নির্বাচন ছিল গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ৭ পরিচালক পদত্যাগ করেছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেকটাই ঢাকা লিগের ওপর নির্ভরশীল, চার বিভাগে ৭৬টি দল আছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রথম বিভাগে ২০ দলের মধ্যে ৮টি খেলেনি। দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ দলের মধ্যে ১২টি অংশ নেয়নি। প্রিমিয়ার লিগে ১২ দলের মধ্যে ৯টি বিরোধিতা করেছে। তৃতীয় বিভাগে ১৫টি দল আপত্তি তোলে।’
‘ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক পাচ্ছিল না। যারা সারাজীবন ক্রিকেটকে ঘিরে জীবন গড়েছিল, তারা আবার রিকশা চালানো বা ফুচকা বিক্রির মতো কাজে ফিরে যাচ্ছিল। সে কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ হস্তক্ষেপ করে, তদন্ত কমিটি গঠন করে, পরিচালকরাও ওই কমিটির বিপক্ষে সাক্ষ্য দেন। সেই বোর্ডের কিছু পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে পড়ে।’
তামিম আরও বলেন, ‘আমার ভাবনা ছিল সহজ, চেষ্টা করে দেখি। সফল কিংবা ব্যর্থও হতে পারি। আমি সেই ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, কারণ অন্তত ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা করছি। আমাকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আমি ৬০ দিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন করব। আর আমরা নিশ্চিত করব, বিশ্বকাপের সময় যা ঘটেছিল, তা যেন আর কখনো না ঘটে।’
আরআই/টিকে