© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সুকেশের অতীত জানতেন জ্যাকুলিন, দাবি তদন্তকারীদের

শেয়ার করুন:
সুকেশের অতীত জানতেন জ্যাকুলিন, দাবি তদন্তকারীদের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০১ এএম | ১২ মে, ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজকে ঘিরে বহুদিন ধরেই চলছে বিতর্ক। ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই আইনি জটিলতায় একের পর এক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠল। কারণ, আদালতে দাঁড়িয়ে তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, জ্যাকুলিন নিজেকে যতই ‘পরিস্থিতির শিকার’ বলে দাবি করুন না কেন, সুকেশ চন্দ্রশেখরের অতীত সম্পর্কে তিনি নাকি সবই জানতেন।

সোমবার দিল্লির আদালতে শুনানির সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়ে যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও, তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্যাকুলিন অবগত ছিলেন। তবুও তিনি সুকেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং কোটি কোটি টাকার দামী উপহার গ্রহণ করেছিলেন।



ইডি আদালতে আরও দাবি করেছে, শুধু জ্যাকলিনই নন, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সুকেশের পাঠানো অর্থ ও উপহারের সুবিধা পেয়েছেন। সেই কারণেই অভিনেত্রীর ‘সহযোগী সাক্ষী’ হওয়ার আবেদনকে সরাসরি বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আর্থিক তছরুপের মতো গুরুতর মামলায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এখন নতুন কৌশল নিচ্ছেন অভিনেত্রী।

আদালতে ইডির তরফে বলা হয়েছে, সুকেশের ‘অন্ধকার অতীত’ জানার পরেও জ্যাকলিন সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। বরং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সুবিধা সচেতনভাবেই ভোগ করেছেন। তাই এই মামলায় তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।

অন্যদিকে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জ্যাকুলিন। তাঁর দাবি, সুকেশ নিজেকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, আবেগের সুযোগ নিয়েই তাঁর জীবন ও কেরিয়ার নষ্ট করে দিয়েছেন সুকেশ।

এই মামলায় অতীতে জ্যাকুলিন ও সুকেশের একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই সময় থেকেই সম্পর্ক নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়। জেলবন্দি অবস্থাতেও বারবার জ্যাকলিনকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন সুকেশ। এমনকি প্রেমপত্র ও কোটি টাকার উপহারের দাবিও উঠে এসেছিল সংবাদ শিরোনামে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দায়ের হওয়া চার্জশিটে জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজকে সহ-অভিযুক্ত হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিল ইডি। অভিযোগ, সুকেশ চন্দ্রশেখর সরকারি আধিকারিক সেজে এবং জেলবন্দি শিল্পপতির জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন।

এখন আদালতে ইডির কড়া অবস্থানের পর জ্যাকলিনের আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন