© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাজধানীতে পানির সংকট মেটাতে ৯২০ কোটি টাকার জরুরি প্রকল্প

শেয়ার করুন:
রাজধানীতে পানির সংকট মেটাতে ৯২০ কোটি টাকার জরুরি প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৫ এএম | ১২ মে, ২০২৬
রাজধানীতে নিরাপদ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং বিদ্যমান সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। বর্তমানে নির্মাণাধীন বড় বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এর মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা ওয়াসা)।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, সর্বশেষ একনেক বৈঠকে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা, পানির পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে, যা ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে। এই উৎপাদিত পানির ৬৬ শতাংশই আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩৪ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ (নদী) উৎস থেকে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকার পানির চাহিদা বেড়ে ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে পৌঁছাবে। বর্তমানে ৫০০ এমএলডি সক্ষমতার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) এবং ৪৫০ এমএলডি সক্ষমতার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে এগুলো যথাক্রমে ২০২৬ ও ২০২৮ সালের আগে চালু হওয়া সম্ভব নয়। এই সময়টুকুতে নগরবাসীর পানির সরবরাহ সচল রাখতেই জরুরি ভিত্তিতে ৯২০ কোটি টাকার এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন। এছাড়া পাম্পের কার্যকারিতা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং পানি সরবরাহের তাৎক্ষণিক তদারকি উন্নত করতে ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি) এবং ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হবে।

পাশাপাশি ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার এবং ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে। পানির মান উন্নয়নে ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে নির্মাণ করা হবে ২৫০টি পাম্প হাউস।

সঞ্চালন ও পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা জোরদারে প্রকল্পের আওতায় ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো ও পরিচালন সুবিধা সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এই প্রকল্পের কারিগরি ও পরিচালনগত সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠকে কিছু পর্যবেক্ষণ মেনে চলার শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, বড় শোধনাগারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পটি রাজধানীর পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের স্বস্তি দেবে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন