স্পোর্টস বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছর কারাদণ্ডের পক্ষে তামিম
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ পিএম | ১২ মে, ২০২৬
একসময় ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের শাস্তির বিধান চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি। সে হিসেবে চাইলে সাবেক এই দেশসেরা ওপেনার বিষয়টি কাজ করতে পারেন। বেটিংয়ে জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই প্রধান। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চলমান মিরপুর টেস্ট দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ও স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ ছাড়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তামিমের নিয়মিত যোগাযোগ হওয়াই স্বাভাবিক। ক্রীড়ায় বেটিং এবং দুর্নীতি বন্ধে শাস্তির বিধান নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তামিমের।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সম্ভব (বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের শাস্তি বিধান করা)। সংসদের স্পিকার টেস্ট ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন, আমি বিষয়টি তার সামনে তুলেছি। ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি শুধু বেটিং নয়, পুরো ক্রীড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন চাই। এখন দুর্নীতিবাজরা জানে, ধরা পড়লেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিষেধাজ্ঞা। তাদের বুঝতে হবে ধরা পড়লে জেলে যেতে হবে। দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে অনেক কমে যাবে।’
‘আমরা ছোটবেলায় শুধু খেলতে জানতাম, জয়-পরাজয়, রান করা এবং উইকেট নেওয়া। এখন ছোট ছোট ছেলেরা এসবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, শুধু বাংলাদেশে নয়–সারা বিশ্বেই। তাদের বুঝতে হবে, যেমন চুরি করলে জেলে যাওয়ার বিষয়ে শেখানো হয়, তেমনি বেটিংয়ে জড়ালেও জেলে যেতে হতে পারে’, আরও যোগ করেন তামিম।

ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষদের কাজে লাগানোর বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমার পটভূমি, আর আমি সবসময় সেই দিকটাই বেশি বুঝব। কিন্তু এই কমিটিতে এমন মানুষ আছেন, যারা অর্থনীতি, টেন্ডার বা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বেশি দক্ষ। তাদের ব্যবহার করতে হবে। একটি ক্রিকেট বোর্ড চালাতে ভারসাম্য দরকার, শুধু ক্রিকেট জানলেই হবে না। অর্থনীতি, স্পন্সরশিপ, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং সবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব পরিচালনার জন্য একজন সিইও আছেন। আমি এতদিন ক্রিকেট খেলার পর বুঝতে পারি, বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন দরকার, উন্নয়ন ও মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমি এখন সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
ভারতীয় সাংবাদিক বিসিবির ব্যাংকে ১৩০০ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে বলে উল্লেখ করেন। সে প্রসঙ্গে তামিম জবাব দেন, ‘আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কিন্তু তাদের জন্য আমি কী করেছি? যদি আমি তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা না দিই, অথচ তা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে, তাহলে তাদের কাছে এত প্রত্যাশা করা কি ন্যায্য? আমার তা মনে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাতে টাকা স্থায়ী আমানতে ফেলে রাখি আইসিসি সেজন্য আমাদের অর্থ দেয় না। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও সেজন্য টাকা দেয় না। এই অর্থ উন্নয়ন, অবকাঠামো ও খেলায় প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যয় করতে হবে। অন্তত একটি শক্তিশালী পাইপলাইন ও অবকাঠামো তৈরি হবে। এরপর দায়িত্ব খেলোয়াড়দের।’
টিজে/টিএ