© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘কাহানি ২’ চিত্রনাট্য চুরির মামলা নিয়ে মুখ খুললেন সুজয় ঘোষ

শেয়ার করুন:
‘কাহানি ২’ চিত্রনাট্য চুরির মামলা নিয়ে মুখ খুললেন সুজয় ঘোষ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫০ এএম | ১৩ মে, ২০২৬
দশ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা সুজয় ঘোষ। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর আলোচিত ছবি ‘কাহানি ২’-এর চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ ঘিরে এক দশক ধরে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে এই নির্মাতাকে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার পর প্রকাশ্যে এসে সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন সুজয়।

স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার এক অনুষ্ঠানে পরিচালক জানান, ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তি উমেশ প্রসাদ মেহতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর লেখা ‘সবক’ নামের একটি পাণ্ডুলিপি চুরি করেই তৈরি করা হয়েছে ‘কাহানি ২’। প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি সুজয়। তাঁর ধারণা ছিল, হয়তো ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এমন দাবি উঠেছে। কিন্তু পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

সুজয়ের ভাষ্য, আচমকাই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। কপিরাইট লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁকে ‘অপরাধী’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া শুরু হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠে তিনি নাকি ওই ব্যক্তির কাছ থেকে চিত্রনাট্য নিয়েছেন, এমনকি ভয় দেখাতে গুন্ডাও পাঠিয়েছেন। অথচ অভিযোগকারীকে তিনি কখনও চিনতেনই না বলে দাবি করেন পরিচালক।



বিদ্যা বালন ও অর্জুন রামপাল অভিনীত ছবিটির চিত্রনাট্য নিয়ে চলা এই লড়াই ধীরে ধীরে সুজয়ের জীবনে ভয় এবং মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একের পর এক নতুন অভিযোগ যোগ হতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এই লড়াই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

শেষ পর্যন্ত গোটা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তদন্ত। সংস্থাটি সুজয়ের চিত্রনাট্য এবং উমেশ মেহতার পাণ্ডুলিপি বিশদভাবে খতিয়ে দেখে জানায়, দুটি লেখার মধ্যে কোনো ধরনের মিল নেই। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন সুজয় ঘোষ।

সব তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে গত মাসে মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেয় আদালত। রায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় সুজয় বলেন, দশ বছর পর তিনি যেন মুক্তি পেলেন। এই সময়টা তাঁর কাছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো ছিল, যা ধীরে ধীরে তাঁকে গ্রাস করে ফেলছিল।

সুজয়ের এই জয় এখন নতুন প্রজন্মের লেখক ও নির্মাতাদের কাছেও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠেছে। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস এবং নিজের সৃষ্টিকে রক্ষা করার গুরুত্ব, আবারও সামনে এনে দিল এই ঘটনা।


এসএ/ এসএন

মন্তব্য করুন