‘ফ্যামিলি ম্যান’ অভিনেতার বাস্তবের লড়াই হার মানাবে সিনেমাকেও
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪১ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
পর্দায় তিনি হাস্যরসের মানুষ। বিপদের মাঝেও ঠান্ডা মাথায় বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। তবে বাস্তব জীবনে অভিনেতা শারিব হাসমির যে লড়াই, তা যেন হার মানাতে পারে যেকোনও সিনেমার গল্পকেও। কারণ, একদিকে স্ত্রীর মরণব্যাধির সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ, অন্যদিকে পরিবারকে আগলে রেখে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই সব মিলিয়ে শারিব এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।
‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ ধারাবাহিকে জে কে তলপাত্রের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন শারিব হাসমি। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায়। জানা গেছে, তার স্ত্রী নাসরিন হাসমি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার তার শরীরে ধরা পড়ে এই মারণ রোগ। তারপর থেকে একে একে পাঁচবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। কিন্তু তাতেও থামেনি রোগের থাবা। এবার ষষ্ঠবারের মতো শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যানসার।
তবুও ভেঙে পড়েননি নাসরিন। বরং প্রতিবারের মতো এবারও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাহস নিয়ে। আর এই পুরো যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন শারিব। অভিনেতার কথায়, তার স্ত্রীর ক্যানসার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রকৃতির। তাই বারবার ফিরে আসে। কিন্তু নাসরিন যেভাবে হাসিমুখে সবকিছু সামলে নিচ্ছেন, তা তাদের পরিবারকে নতুন করে শক্তি জোগায়।

নাসরিনও জানিয়েছেন, অসুস্থতার কঠিন সময়গুলোতে শারিব শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, একজন নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন। কাজের ব্যস্ততা শেষ করেই হাসপাতালে ছুটে যেতেন তিনি। কখনও দিনের পর দিন হাসপাতালের কেবিনেই কাটিয়ে দিয়েছেন। নাসরিনের ভাষায়, শারিব পাশে থাকলেই তার মনে শান্তি আসে। সেই উপস্থিতিই তাকে বাঁচার সাহস দেয়।
কিশোর বয়স থেকে শুরু হয়েছিল শারিব ও নাসরিনের সম্পর্ক। এরপর ২০০৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্কের পথে এসেছে বহু ঝড়, বহু পরীক্ষা। কিন্তু একে অপরের হাত ছাড়েননি কখনও। তাদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
অভিনয় জীবনে শাহরুখ খানের ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু হলেও, শারিবের জনপ্রিয়তা আসে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ ধারাবাহিক দিয়ে। পরে আরও বেশ কিছু ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তবে এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় চরিত্র যেন একজন স্বামীর, যে কঠিনতম সময়েও প্রিয় মানুষটির পাশে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পিআর/টিএ