পর্যটন খাতে বিদেশি মুদ্রা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৪ পিএম | ১৪ মে, ২০২৬
নতুন সরকারের কাছে পর্যটন খাতের প্রত্যাশা নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা একমত হয়েছেন যে- যথাযথ গবেষণা ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছাড়া এই খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা পর্যটনকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার পর্যটন খাতের থিংকট্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সংগঠন ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ইউটিএসএসওবি) আয়োজিত "পর্যটন খাতে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।
গবেষণার অভাবে পিছিয়ে বাংলাদেশ
বক্তারা জানান, বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো প্রচুর উপাদান ও সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। ফলে দেশে এখনো কোনো শক্তিশালী 'ট্যুরিজম আইকন' বা একক পর্যটন পণ্য ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব হয়নি। অথচ বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।
গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বদিউজ্জামান ভূইয়া বলেন: "পৃথিবীর ৫১টি দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন মূল চালিকাশক্তি। আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম নিয়ে পড়াশোনা করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই খাতে দ্রুত কাজে লাগানো জরুরি।"
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুল ইসলাম পর্যটন খাতের সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক সিইও জাবেদ আহমেদ বলেন, "পর্যটন যে প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন-সেটি সরকারকে যথাযথভাবে বোঝাতে পারলে এই খাতের বিকাশে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও সহায়তা আরও বাড়বে।"
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা তার বক্তব্যে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশনের মধ্যে কাজের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী
ইউটিএসএসওবি-এর সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইকরাম। আলোচনাটি মডারেট করেন সহ-সভাপতি তৌফিক রহমান।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও অংশ নেন:
জামিউল আহমেদ জামিল, খবির উদ্দিন আহমেদ, মোহম্মদ হানিফ, তসলিম আমিন শোভন, মহিউদ্দিন হেলাল, আসলাম খানসহ বিশিষ্ট পর্যটন উদ্যোক্তাবৃন্দ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার পর্যটনকে একটি অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে বিবেচনা করে বিদেশি মুদ্রা আয় ও তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
টিকে/