© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন চুক্তি বাতিলের দাবিমানববন্ধন থেকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সরিয়ে দিলেন বিএনপিপন্থীরা

শেয়ার করুন:
মানববন্ধন থেকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সরিয়ে দিলেন বিএনপিপন্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪১ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের করা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আওয়ামীপন্থী কয়েকজন আইনজীবী ঢাকা বার সাধারণ আইনজীবীর ব্যানারে মানববন্ধন করেন। তবে বিএনপিপন্থী আইনজীবী তাদের বাধা দিয়ে সরিয়ে দেন।

এ সময় কিছুটা উত্তেজনা সৃৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। চুক্তিকে দেশবিরোধী দাবি করে আইনজীবীরা এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

এদিন দুর্নীতির মামলায় মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

মানববন্ধনে যোগদানের জন্য আইনজীবীরা তাকে আহ্বান জানান। এ সময় আইনজীবীরা ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আনিস আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের মামলার বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে যখন যে সরকার আসবে ভালো কাজের প্রশংসা ও খারাপ কাজের নিন্দা করা।

সেটা করে এসেছি, যখন ইউনূসের আমলে করতে চাচ্ছিলাম- করছিলাম, তখন আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, ইউনূস যে একটা অপশাসন কায়েম করেছেন, ১৮ মাসে দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। নিজে চুরিচামারি করে, কিভাবে নিজের অর্থ লাভ করা যায়। নিজের মামলাগুলো খারিজ করা যায়।

আয়কর ফাঁকি দেওয়া যায়। সবকিছুই ইউনূস করে দিয়ে গেছেন। সব শেষ যাওয়ার তিন দিন আগে বাংলাদেশকে আমেরিকার হাতে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন।’

আনিস আলমগীর বলেন, ‘ইউনূস একটা বিশ্ব বাটপার, এই বিশ্ব বাটপার থেকে আমরা অন্য একটা অধ্যায়ে এসেছি। সেখান থেকে আমরা কিভাবে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, আমরা এখানে সরকারকে সহযোগিতা করব এবং সরকারকে ক্রিটিসাইজ করব। এতগুলো শিশু যে মারা গেছে, সে জন্য ইউনূসের যে দুঃশাসনের প্রতিফল এখন পত্রপত্রিকায় বেরিয়ে এসেছে। তাই বলে কি আমরা ইউনূসের ওপর দোষ দিয়ে যাব তা না। আমরা এই সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে, এতগুলা প্রাণ যখন যাচ্ছে, আমাদের ভাবতে হবে সরকার কী করছে। সরকারকে আমরা বলব, যে সমস্যার মধ্যে আমরা পড়েছি সেটার সমাধানের পাশাপাশি ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা যে অবহেলা করে গেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেন। তাদের আইনের আওতায় না আনা হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে। যারা ক্ষমতায় আসবে এই অপকর্ম করে বিদায় নিতে পারবে না।’

হাজিরা শেষে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন আনিস আলমগীর। কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি।

আইনজীবীরা মানববন্ধন শেষ করে কয়েকটা গ্রুপে আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী এসে তাদের এ ধরনের মানববন্ধন না করে চলে যেতে বলেন। প্রতিউত্তর দেন আওয়ামীপন্থী এক আইনজীবী। তাকেসহ কয়েকজন আইনজীবীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী। এরপর তারা সরে যান।

এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী জাকির হাসান (জুয়েল) বলেন, তারা কয়েকজন আইনজীবী মিলে কোর্টে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার জন্য এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করেন। সাধারণ আইনজীবীরা তাদের এই কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, নিষেধ করেন। পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে তারা চলে যান।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি, গতকাল সিজেএম কোর্টের সামনে তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যখন হাজিরা দিতে আসেন, তখন তারা তাদের নেতৃবৃন্দকে সামনে রেখে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে, তাদের পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য তারা কোর্ট-কাছারিতে এই পরিবেশ তৈরি করেন। তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করার জন্য পাঁয়তারা করছেন। তাই সাধারণ আইনজীবীরা আজকে এর প্রতিবাদ করেছেন।’


আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে হামের টিকায় গাফিলতি ও আমেরিকার সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন করি। সেখানে ৩-৪ জন লোক এসে ধস্তাধস্তি করেন। তারা অভিযোগ করেন, এখানে নাকি জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়নি। আর জয় বাংলা স্লোগান তো নিষিদ্ধ নয়। যে কেউ দিতে পারে। তবে আজ জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়নি।’

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন