© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৭০ বছরের মধ্যে এই প্রথম লোকসানে হোন্ডা

শেয়ার করুন:
৭০ বছরের মধ্যে এই প্রথম লোকসানে হোন্ডা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫৬ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে হোন্ডা জানিয়েছে, তাদের আয় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। এতে সম্ভাব্য ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা হারিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪০৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েন বা ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নিট লোকসান দেখিয়েছে।

বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার প্রভাব পড়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা হোন্ডার ব্যবসায়। ১৯৫৫ সালের পর এবারই প্রথম বার্ষিক লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিমালা পরিবর্তন এবং মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলারের কর-সুবিধা বাতিল করার পর হোন্ডাসহ বিশ্বের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইভি পরিকল্পনা কমিয়ে আনে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ইভির বিক্রি কমতে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে ইভির চাহিদা তেমন বাড়েনি।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আরও কঠোর নীতিমালা আসবে বলে ধারণা করেছিল। সে কারণে আগামী দশকের মধ্যে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়িনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে তারা শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন প্রশাসনের চালু করা কঠোর নির্গমন নীতিমালা বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি নির্গমন নীতিমালা লঙ্ঘন করলে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও তুলে নেওয়া হয়।

এর ফলে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও বেশি লাভজনক বড় আকারের পেট্রোলচালিত ট্রাক ও এসইউভি বিক্রির দিকে মনোযোগ দেয়। তবে ইভি খাতে বড় বিনিয়োগের মূল্য কমিয়ে আনতে হওয়ায় এই পরিবর্তন তাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে হোন্ডা জানিয়েছে, তাদের আয় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। এতে সম্ভাব্য ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা হারিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪০৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েন বা ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নিট লোকসান দেখিয়েছে।

হোন্ডা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরেও ইভি বিনিয়োগের বিপরীতে অতিরিক্ত মূল্যহ্রাস দেখাতে হতে পারে। তবে সেটি নতুন করে লোকসানের কারণ হবে না বলে আশা করছে তারা।

হোন্ডার আগে জেনারেল মোটরস ইভি পরিকল্পনা কমানোর কারণে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করে। ফোর্ডও একই বছরে ১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির ঘোষণা দেয়।

আর উত্তর আমেরিকায় জিপ, র‍্যাম, ডজ ও ক্রাইসলার ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাতা স্টেলান্টিস জানিয়েছে, তাদের ক্ষতির পরিমাণ ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো বা ২৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

তবে বড় অঙ্কের ক্ষতি দেখানোর পরও জিএম মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ইভি খাত থেকে সরে আসার ব্যয় ফোর্ড ও স্টেলান্টিসকে ২০২৫ সালে নিট লোকসানের মুখে ফেলেছে।

ফোর্ড চলতি বছর আরও ক্ষতির আশঙ্কাও করছে। তবে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ইভি তৈরির পরিকল্পনা বাদ দেয়নি। ইউরোপ ও এশিয়ায় কঠোর নির্গমন নীতিমালা এখনও কার্যকরের পথে রয়েছে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন পেট্রোলচালিত গাড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা গাড়ি নির্মাতাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বিগ্ন। কারণ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ইভি গাড়িই বিক্রি করছে। যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন বাজারে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন