© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তির পথে

শেয়ার করুন:
আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তির পথে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫১ এএম | ১৫ মে, ২০২৬

ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দ্রুতই প্রত্যাহার করা হতে পারে।

মামলা সম্পর্কে অবগত বেশ কয়েকজনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের জানায়, বিচার বিভাগ অভিযোগগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করছে।

এই সিদ্ধান্তটি আসে ভারতীয় বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের একজন রবার্ট জে. জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বে একটি নতুন আইনি দল নিয়োগ করার পর।

আদানির পক্ষে জিউফ্রার প্রচেষ্টা গত মাসে ওয়াশিংটনে বিচার বিভাগের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। বৈঠকে আইনজীবী জিউফ্রা প্রায় ১০০টি স্লাইডের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন কেন প্রসিকিউটরদের কাছে প্রাথমিক প্রমাণের অভাব ছিল, এমনকি মামলাটি আনার এখতিয়ারও তাদের ছিল না।

আরেকটি স্লাইডে একটি অস্বাভাবিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল: যদি প্রসিকিউটররা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেন, তাহলে আদানি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন, যা ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনের পর তার দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতিরই প্রতিধ্বনি।

একই বৈঠকে আদানির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আনা একটি দেওয়ানি মামলা এবং ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের একটি পৃথক তদন্তের নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন জিউফ্রা । এসইসি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আদানির সঙ্গে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করে; অর্থ বিভাগ আগামী দিনগুলোতে তাদের নিজস্ব চুক্তি প্রকাশ করতে পারে। অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করায় বিচার বিভাগ মামলাটি আর না টেনে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও প্রসিকিউটররা পরে জিউফ্রাকে জানান যে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

মামলার বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হয়ে গেলেও, তাকে আর্থিক জরিমানা দিতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত এসইসির সমঝোতায় ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে আদানি ছয় মিলিয়ন ডলার দেবেন এবং বাকিটা দেবেন আরেক অভিযুক্ত।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি গ্যাস সরবরাহের জন্য আদানির কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে তদন্ত করছিল মার্কিন অর্থ বিভাগ। এখন তারাও নিজস্বভাবে প্রায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি জরিমানা আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মামলার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

আইনি এই জটিলতা দূর হলে তা আদানি গ্রুপের জন্য এক বিশাল বিজয় হিসেবে দেখা হবে। গত কয়েক বছর ধরে কয়লা খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিমানবন্দর খাতের ব্যবসায় এই মামলাটি একটি বড় বাধা হিসেবে ছিল।

২০২৪ সালের নভেম্বরে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় গৌতম আদানি ও তার নির্বাহীরা জড়িত ছিলেন। তবে শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন