ফারাক্কা দিবস জনগণকে অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত করে: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪২ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এখনো প্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আগামীকাল ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) দেয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৬ মে ফারাক্কা দিবস বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। তিনি উল্লেখ করেন, ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর আহ্বানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার মুখে পড়ে। ওই অঞ্চলে পানিসংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত মান ও সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়গুলো উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। পরে সেই বাঁধ স্থায়ীভাবে চালু থাকায় তা এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, সেই সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বাণীতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সম্ভাব্য জনদুর্ভোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে মিছিল করেছিলেন। এর মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তুলে ধরা হয়। এরপর থেকেই ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর ফলে দেশ ধীরে ধীরে উষর ও নিষ্ফলা ভূমিতে পরিণত হওয়ার লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।
বাণীর শেষাংশে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশে যাত্রা করা ঐতিহাসিক মিছিল ছিল ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক সাহসী পদক্ষেপ। ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেওয়া কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন তিনি।
কেএন/এসএন