কাজের সন্ধানে পর্তুগালে যাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর
ছবি: সংগৃহীত
০২:১০ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
জীবিকার তাগিদে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পর্তুগালে পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের রাম প্রসাদ সরকার। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল অল্প সময়েই। দেশটির ফারো ও পর্তিমাওয়ের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এই বাংলাদেশি যুবক।
জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পর্তুগালে গিয়েছিলেন রাম প্রসাদ সরকার (৩৬)। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ফারো ও পর্তিমাওয়ের মাঝামাঝি এলাকায় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের সঙ্গে একটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাম প্রসাদ সরকারের মৃত্যু হয়।
প্রাইভেটকারটিতে মোট পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। দুর্ঘটনায় বাকি চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এই ঘটনায় পর্তুগালপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের মধ্যেও চলছে আহাজারি।
সংবাদমাধ্যম বলছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আলগার্ভের মেক্সিলহেইরা গ্রান্দে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটিতে পাঁচ বাংলাদেশি ছিলেন। একটি রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই রাম প্রসাদ সরকারের মৃত্যু হয়। ৩১ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আহত চার বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে পোর্তিমাও ও ফারোর বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে আলগার্ভ রেললাইনের পোর্তিমাও ও মেক্সিলহেইরা গ্রান্দে স্টেশনের মধ্যকার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে উদ্ধারকাজ শেষ হলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সতর্কসংকেত উপেক্ষা করে গাড়িটি রেলক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে এবং ট্রেনের সামনে চলে যায়। আর এতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, রাম প্রসাদ সরকার কাজের সন্ধানে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দেশটিতে গিয়েছিলেন। তার মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা চেয়েছে পরিবার।
এসকে/এসএন