সত্যি কথা বলছি ছবির ব্যবসার হিসাব রাখা ছেড়ে দিয়েছি: আবীর চট্টোপাধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৩ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
গ্রীষ্মের ছুটি মানেই এক সময় ছিল গল্পের বই, ছাদের আড্ডা, রেডিয়ো, আচার আর আত্মীয়দের সঙ্গে কাটানো নির্ভেজাল সময়। সেই স্মৃতির আবহ নিয়েই ফের বড়পর্দায় ফিরছে সোনাদার অভিযান। পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নতুন ছবি ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’ মুক্তির আগেই আলোচনায়। আর সেই ছবিকে ঘিরেই স্মৃতি, সিনেমা, সমাজমাধ্যম এবং ছবির ব্যবসা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়।
গ্রীষ্মের ছুটির প্রসঙ্গ উঠতেই যেন নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলেন ধ্রুব এবং আবীর দু’জনেই। ধ্রুবের কথায়, তাঁদের ছোটবেলায় ছুটি মানেই ছিল ট্রেনে করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, আত্মীয়দের বাড়িতে একসঙ্গে সময় কাটানো আর গল্পের বইয়ে ডুবে থাকা। সেই সময়ের সম্পর্কগুলো এখন আর বাস্তবে খুব একটা দেখা যায় না বলেই মনে করেন তিনি। তাই আজও পর্দায় সেই সম্পর্কের গল্প তুলে ধরতে চান।

আবীরও ফিরে গেলেন শৈশবের স্মৃতিতে। দাদুর গল্প শোনা, মামাবাড়িতে গিয়ে পছন্দের খাবারের তালিকা দেওয়া, ছাদে শুয়ে থাকা, লোডশেডিংয়ের রাতে আচার খাওয়া সব মিলিয়ে তাঁর ছেলেবেলার গ্রীষ্ম যেন এখনও স্পষ্ট। অভিনেতার কথায়, তখনকার সময়টা ছিল অনেক সহজ, অনেক আন্তরিক।
২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল ধ্রুব ও আবীরের পথচলা। যদিও সেই সময় ছবির কাজ শুরু হয়নি নানা কারণে। তবে এক দশক পরেও তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতা একই রয়ে গেছে। আবীরের কথায়, তিনি ভাবতেই পারেননি দর্শক তাঁকে এত দ্রুত ‘সোনাদা’ হিসেবে গ্রহণ করবেন। এখনও অনেকেই তাঁকে ব্যোমকেশ নামে ডাকেন। কিন্তু ছোটদের কাছ থেকে সোনাদা চরিত্রের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে বিশেষ প্রাপ্তি।
অভিনেতা হিসেবে আবীরকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখেন ধ্রুব। তাঁর মতে, একই সঙ্গে সোনাদা, ব্যোমকেশ কিংবা ফেলুদার মতো চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরা খুব সহজ নয়। ইন্ডাস্ট্রি যেখানে একজন অভিনেতাকে নির্দিষ্ট ছকে আটকে দিতে চায়, সেখানে বারবার নিজেকে বদলে ফেলার ক্ষমতাই আবীরের সবচেয়ে বড় শক্তি।
গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করতে করতে কখনও একঘেয়েমি আসেনি বলেও জানিয়েছেন আবীর। বরং প্রতিবারই নতুনভাবে দর্শকের সামনে নিজেকে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।
এই ছবির বড় অংশের শুটিং হয়েছে সুন্দরবনে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, সুন্দরবন শুটিংয়ের জন্য খুব সহজ জায়গা নয়। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য এতটাই অসাধারণ যে সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। পুরো দলের পরিকল্পনা এবং পরিশ্রমের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
তবে ছবির গল্পের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আবীরের এক মন্তব্য। ছবির ব্যবসা বা আয় নিয়ে এখন আর ভাবেন না তিনি। অভিনেতার স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁদের কাজ যত্ন নিয়ে সিনেমা তৈরি করা এবং দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তারপরের হিসাব তাঁর দায়িত্ব নয়। তিনি বলেন, “যে দিন স্বচ্ছ হিসাব পাব, সে দিন ব্যবসার হিসাব নিয়ে কথা বলব।”
সমাজমাধ্যমের বিতর্ক থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন আবীর। গত দুই বছর ধরে তাঁর দলই সব সামলায়। ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রয়োজন ছাড়া কিছু পোস্ট করেন না অভিনেতা। সিনেমার ব্যবসা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতেও আগ্রহী নন তিনি। তাঁর মতে, মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সব বিষয় প্রকাশ্যে এনে বিতর্ক তৈরি করার কোনও প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি টালিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে নারাজ আবীর ও ধ্রুব দু’জনেই। সময়কে সময় দিতে চান তাঁরা।
ছোটপর্দায় সঞ্চালকের কাজই তাঁকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন আবীর। সেই কারণেই বড়পর্দায় বেছে বেছে কাজ করার স্বাধীনতা পান তিনি।
সব মিলিয়ে ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’ শুধু একটি অভিযানের গল্প নয়, বরং স্মৃতি, সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং সময়ের পরিবর্তনেরও গল্প হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
পিআর/টিকে