© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ে বিধিনিষেধের প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরের

শেয়ার করুন:
ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ে বিধিনিষেধের প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২২ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার কর্তৃক রাস্তাঘাট বা উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং তথাকথিত ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এমন সময়ে অবাস্তব বিধিনিষেধ জারি করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াল জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এএফসিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতে উগ্রপন্থি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আসামে বিতর্কিত এনআরসি ও সিএএ আইনের মাধ্যমে লাখ লাখ মুসলিমকে নাগরিকত্বহীন করার ষড়যন্ত্র, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে উপত্যকাটিকে অবরুদ্ধ কারাগারে পরিণত করা, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস, বিতর্কিত ‘ওয়াকফ বিল’-এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পদ কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ ও উপাসনালয় ভাঙচুর ও দখলের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং গরু জবাইয়ের ওপর জারি করা বৈষম্যমূলক কালো আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব লীগসহ সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে ভারতের মাটিতে মুসলমানদের ওপর চলমান এই জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন