অবসর নিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকের আক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৩ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডে ছিলেন স্টিভ মান্দান্দা। তবে হুগো লরিস কোচ দিদিয়ের দেশামের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হওয়ায় সেভাবে মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। শুধু ডেনমার্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটায় একাদশে ছিলেন মান্দান্দা। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ১০ সেপ্টেম্বর ৪০ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী মান্দান্দা ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের ক্লাব রেঁন থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার পর মাঠের বাইরে থাকার অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছেন তার লেখা বই 'দ্য ডে আফটার'- এ। সেখানে জানিয়েছেন, অবসর জীবনের হতাশার কথা।
৪১ বছর বয়সী মান্দান্দা লিখেছেন, 'আমি ভালো নেই। আমি কিছুই করছি না, একদম কিছুই না। আমার জীবন নিয়ে কী করছি, আমার দিনগুলো নিয়ে কী করছি? আমি নীরবে ডুবে যাচ্ছি।'
তিনি আরও লেখেন, 'গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় কোনো কিছুরই আর স্বাদ নেই... আমার দিনগুলো অন্তহীন ও শূন্য। শক্তিহীন। অর্থহীন। এটাই কি তাহলে সেই ছোট্ট মৃত্যু?'
মান্দান্দা বর্ণনা করেন, অবসর গ্রহণের পর কীভাবে একজন অভিজাত ক্রীড়াবিদের কঠোর ও সময়মাফিক জীবনের জায়গায় হঠাৎ করেই চলে আসে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। প্রায় রাতারাতি বদলে যায় তার ২৫ বছরের অভ্যস্ত জীবনযাপন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ফুটবল ও সেই জীবনকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন এবং অবসর নেওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তার ভাষায়, 'আমি চিরতরে থামতে চাইনি, কারণ আমি খুব ভালো করেই জানতাম আমি এই জীবনটাকে ভালোবাসি।'

একইসঙ্গে তিনি স্বল্পমেয়াদে লক্ষ্যহীনতার কথাও তুলে ধরেন, 'আমি সোফায় শুয়ে থাকি, কিন্তু জানি না আমি কী আশা করছি, কী চাইছি। কিছুই করতে ইচ্ছা করে না। এখন আমার জীবনের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। আমি মনে করি আমি অসুখী।'
গভীর হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি হারিয়ে গেছি। আমার সামনে আর সেই দুই গোলপোস্ট নেই, ফুটবল নেই। নেই ড্রেসিংরুম, সতীর্থরা, ট্রেনিং ক্যাম্প... কীভাবে এই অন্ধকার পেরিয়ে ভালো জায়গায় যাওয়া যায়?'
তিনি জানান, জীবনে কোনো লক্ষ্য বা কাজ না থাকায় তার ওজন তিন-চার কেজি বেড়ে যায় এবং মানুষ যেন তাকে এভাবে না দেখে, সে জন্য ঘর থেকে বের হওয়াও কমিয়ে দেন।
এই কথাগুলো তিনি তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ে তুলে ধরেছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২২–এ কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ৩৭ বছর ২৪৭ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসে বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হওয়ার রেকর্ডও গড়েন। এর আগে রেকর্ডটি ছিল বার্নার্ড লামার, যিনি ৩৭ বছর ১৪৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছিলেন।
মান্দান্দার পেশাদার ক্যারিয়ার কেটেছে মাত্র চারটি ক্লাবে। লে হাভ্রেতে শুরুর পর মার্শেইয়ে কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। সেখানে তিনি তিনটি কুপ দে লা লিগ, দুটি ট্রফে দে শঁপিয়ঁ এবং ২০০৯-১০ মৌসুমে একটি লিগ ওয়ান শিরোপা জেতেন। পাশাপাশি পাঁচবার বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারও পান। মার্শেইয়ের হয়ে ৬১৩টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে ১৯৩টি ক্লিন শিট রাখেন মান্দান্দা। এরপর প্রিমিয়ার লিগে কিছুদিন ক্রিস্টাল প্যালেসে কাটিয়ে ফের স্বদেশের ক্লাব রেঁনে যোগ দেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে তিনি বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০২১ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাও জিতেছেন।
এসকে/টিকে