উত্তেজনার মাঝেও নতুন কৌশলে ঊর্ধ্বমুখী ইরাকের তেল রপ্তানি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৪ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত এক মাসে প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটির নিজেদের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে গত এপ্রিল মাসে দেশটি মাত্র এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে মাসিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি এখন খুবই সীমিত। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ সেখানে প্রবেশ করছে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটির অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে।
তবে কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাগদাদ ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর মার্চ মাসে পাইপলাইনটি চালু হয়।
বর্তমানে ইরাক দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে জানিয়ে বাসিম মোহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমানে তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছি। এটি পাঁচ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, তেল ও গ্যাস খাতে নতুন প্রকল্প নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মার্কিন কম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ইরাক। দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে ইরাক উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর (ওপেক) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান ইরাকি জ্বালানিমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘আমরা ওপেকের সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সংলাপ করছি। রপ্তানি বৃদ্ধি ও ওপেকের সীমা শিথিল হলে ইরাক বড় ধরনের আর্থিক আয় পাবে।’
তিনি বলেন, ইরাক ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ওপেক বা ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না বলেও জানিয়েছেন ইরাকি কর্মকর্তারা।
এসকে/টিকে