ফের কঙ্গোতে ইবোলার থাবা, মৃত্যু ৮০
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০২ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তে আবারও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন অন্তত ৮০ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মংগওয়ালু ও রামপোয়ারা এলাকার বাসিন্দা। বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী উগান্ডা শুক্রবার (১৫ মে) কঙ্গো থেকে আসা এক ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মারা যান এবং পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলা ভাইরাস ধরা পড়ে।
১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়েছিল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তেই। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।
ইবোলা সাধারণত শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শ বা ক্ষতস্থানের মাধ্যমে ছড়ায়। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যেসব উপসর্গে সতর্ক হতে হবে:
ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে-
> জ্বর
> পেশিতে ব্যথা
> দুর্বলতা
> মাথাব্যথা
> গলাব্যথা
পরবর্তী সময়ে রোগীর মধ্যে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র্যাশ এবং রক্তক্ষরণের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে ইবোলার নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।
পরীক্ষায় মিলেছে ভয়াবহ ইঙ্গিত
দেশটির রাজধানী কিনশাসার ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রেচের্চে বায়োমেডিকেল-এ করা প্রাথমিক পরীক্ষায় ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ভাইরাসটির ধরন নির্ধারণে আরও পরীক্ষা চলছে।
আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ৮০ জন মৃতের মধ্যে চারজনের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে।
এ ছাড়া ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতেও সন্দেহভাজন আরও কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যদিও তাদের পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশ হয়নি।
ঘনবসতি ও খনিশিল্পে বাড়ছে সংক্রমণের শঙ্কা
আফ্রিকা সিডিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, রামপোয়ারা ও বুনিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং মংগওয়ালুর খনিশিল্পের কারণে ভাইরাস দ্রুত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, আক্রান্ত অঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় আঞ্চলিক সমন্বয় এখন অত্যন্ত জরুরি।
জরুরি বৈঠকে সীমান্ত নজরদারির আলোচনা
যদিও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেনি, তবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সীমান্ত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
সংঘাতপূর্ণ ইতুরি অঞ্চলে বাড়তি উদ্বেগ
ইতুরি অঞ্চলটি ২০২১ সাল থেকে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দমনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এলাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস নামের একটি গোষ্ঠীও রয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব হয়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। সে সময় প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। সবশেষ গত বছর মধ্যাঞ্চলের কাসাই প্রদেশের বুলাপে এলাকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মারা যান ৪৫ জন।
এসকে/টিকে