© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শর্মিলার কোন কথা শুনে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন ‘চকোলেট হিরো’ সাইফ

শেয়ার করুন:
শর্মিলার কোন কথা শুনে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন ‘চকোলেট হিরো’ সাইফ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৩ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
বলিউডে তাঁর পরিচয় শুধু তারকাসন্তান হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব অভিনয় দক্ষতায় তৈরি করেছেন আলাদা জায়গা। তবে সেই পথটা মোটেও সহজ ছিল না সাইফ আলি খানের জন্য। দীর্ঘ সময় ধরে ‘চকোলেট হিরো’ তকমার মধ্যে আটকে ছিলেন তিনি। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করলেও অভিনেতা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না। আর সেই সময়ই ছেলের কেরিয়ার নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মা শর্মিলা ঠাকুর। সেই কথাই নাকি বদলে দেয় সাইফের অভিনয় জীবন।

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পটৌডী ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের ছেলে সাইফ আলি খান নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পা রাখেন। ১৯৯৩ সালে ‘পরম্পরা’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ তাঁর। যদিও প্রথম ছবির আগেই অন্য একটি ছবি থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে। শুরু থেকেই কেরিয়ারে ওঠাপড়া ছিল নিত্যসঙ্গী।



‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’, ‘কাচ্চে ধাগে’, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘ইয়ে দিললাগি’ কিংবা ‘কয়া কহেনা’র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সাইফ। কিন্তু দর্শকের কাছে তিনি বরাবরই রোম্যান্টিক বা হালকা মেজাজের নায়ক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। একক অভিনেতা হিসেবে শক্ত ভিত তৈরি করতে পারছিলেন না।

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম তুম’ ছবিই বদলে দেয় তাঁর কেরিয়ারের মোড়। রানি মুখোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কারও পান সাইফ। এরপর ‘সালাম নমস্তে’, ‘রেস’, ‘লাভ আজ কাল’ এবং ‘ককটেল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তবু ছেলের অভিনয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না শর্মিলা ঠাকুর। এক সাক্ষাৎকারে সাইফ জানিয়েছিলেন, তাঁর মা একদিন তাঁকে বলেছিলেন, “তোমাকে অভিনেতা হিসেবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না।” সেই কথাই নাকি ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল অভিনেতাকে।

সাইফের কথায়, আগে তিনি মাকে শুটিং লোকেশন আর বিদেশ সফরের গল্প শোনাতেন। তখন শর্মিলা তাঁকে বলেছিলেন, তিনি সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন, যেদিন ছেলে বলবে কোনও চরিত্র তাঁকে ভিতর থেকে ছুঁয়ে গেছে। সেই কথার পর থেকেই অভিনয়কে অন্যভাবে দেখতে শুরু করেন সাইফ। চরিত্রের মধ্যে নিজেকে ভাঙতে শুরু করেন, চরিত্রকে অনুভব করতে শেখেন।

তার কয়েক বছরের মধ্যেই ‘ওমকারা’ ছবিতে ল্যাংড়া ত্যাগী চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। একেবারে অন্য রূপে ধরা দেন পর্দায়। পরে ‘সেক্রেড গেমস’-এর মতো ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। সাইফ নিজেও স্বীকার করেছেন, অভিনেতা হিসেবে তাঁর এই বদলের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে মা শর্মিলা ঠাকুরের।

একসময় যাঁকে শুধুই ‘চকোলেট হিরো’ বলা হত, আজ সেই সাইফ আলি খান বলিউডের অন্যতম বহুমুখী অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আর সেই যাত্রার মোড় ঘুরেছিল মায়ের এক কঠিন অথচ সত্যি কথাতেই।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন