শান্তি আলোচনায় গতি আনতে তেহরানে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে থমকে থাকা শান্তি আলোচনায় গতি আনার লক্ষ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। শনিবার ইসলামাবাদ থেকে বিশেষ বিমানে করে তেহরানে পৌঁছান এই পাকিস্তানি মন্ত্রী। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি। দুই দেশের মাঝে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘আঞ্চলিক শান্তির প্রচার এবং আলোচনা সহজতর করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দুই দিনের এক সরকারি সফরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে পৌঁছেছেন মহসিন নাকভি।’’
তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নকভিকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের তেহরান সফরের কয়েক দিন পরই মহসিন নকভি দেশটিতে সফরে গেলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মধ্য দিয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। পরে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বার্তা পেয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের উচিত তেহরানের শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়া। অন্যথায় তাদের ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
এর আগে, ইরানের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘‘আমাদের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরানি জনগণের যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। অন্য যেকোনও পন্থা পুরোপুরি অকার্যকর হবে; যা কেবল একের পর এক ব্যর্থতাই ডেকে আনবে।’’
সূত্র: এএফপি।
আরআই/টিকে