ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত কিছু নাম জুলাই শহীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫০ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ জন জুলাই যোদ্ধাকে নতুন করে গেজেটভুক্ত করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত নাম পরবর্তীকালে বাদ দেওয়া হয়। যারা সরাসরি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বা আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শহীদদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের নামের উল্লেখ থাকলেও গেজেটভুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় কিছু নাম যুক্ত এবং কিছু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ জনকে নতুন করে গেজেটভুক্ত করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত নাম পরবর্তীকালে বাদ দেওয়া হয়। যারা সরাসরি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বা আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আহত ও শহীদদের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।আহতদের এ, বি ও সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতরভাবে আহতদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ আংশিকভাবে সক্ষমতা হারিয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে আলাদা প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।যারা শারীরিকভাবে সীমিত সক্ষমতা নিয়ে আছেন, তাদের প্রযুক্তিনির্ভর কাজসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সমাজকল্যাণ, আইসিটি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ে আহতদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ ভাতার ওপর নির্ভর করতে চান না। তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও কর্মসংস্থান চান। সেই লক্ষ্যেই পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, এটি একটি এনজিও হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের অধীনস্থ অধিদপ্তরের সঙ্গে এর কার্যক্রম সমন্বয় করা প্রয়োজন কি না, সেই বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। ফাউন্ডেশনের ডাটাবেজ ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় কাজে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এমআর/টিএ