© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্যক্তিগত বাগানে ট্রাম্পকে নিয়ে পুতিন প্রসঙ্গে শি জিনপিং

শেয়ার করুন:
ব্যক্তিগত বাগানে ট্রাম্পকে নিয়ে পুতিন প্রসঙ্গে শি জিনপিং

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩১ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক চীন সফরের একটি বিরল মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সফরের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেই ট্রাম্পকে নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত বাগানে— যা সাধারণত বিদেশি নেতাদের জন্য খুব কমই উন্মুক্ত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও প্রোটোকলনির্ভর চীনা কূটনীতিতে এমন দৃশ্য খুবই বিরল। কারণ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শি জিনপিংকে সচরাচর পূর্বপ্রস্তুত বক্তব্যের বাইরে স্বতঃস্ফূর্ত আলাপে দেখা যায় না।

ঝংনানহাইয়ে বিরল মুহূর্ত
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীনের শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষিত সরকারি বাসভবন ঝংনানহাই চত্বরে দোভাষীর মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে খোশগল্প করছেন শি জিনপিং। এক পর্যায়ে একটি তোরণ পার হওয়ার সময় ট্রাম্প যেন হোঁচট না খান, সে জন্য হাত বাড়িয়ে পথ দেখিয়ে দেন তিনি এবং সিঁড়ির দিকেও ইশারা করেন। এই ছোট্ট সৌজন্যমূলক আচরণও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

শতবর্ষী গাছ আর ‘একসঙ্গে মিশে যাওয়ার’ বার্তা
হাঁটার সময় শি জিনপিং হঠাৎ থেমে একটি পুরোনো গাছ দেখিয়ে বলেন, গাছটির বয়স একশ বছরেরও বেশি। এরপর তিনি জানান, এটি আসলে দুটি আলাদা গাছ ছিল, যা সময়ের সঙ্গে একত্রে মিশে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের বিষয়ে শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরে যে বার্তা দিয়ে আসছেন, এই মন্তব্য হয়তো তারই প্রতীকী ইঙ্গিত।

ট্রাম্পের প্রশ্ন, শির জবাবে উঠে এল পুতিনের নাম
পরিদর্শনের মাঝেই ট্রাম্প জানতে চান, শি জিনপিং কি প্রায়ই বিদেশি নেতাদের এই এলাকায় নিয়ে আসেন? মাথা নেড়ে দৃঢ়ভাবে শি জবাব দেন, ‘খুব কমই।’
এরপর ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন এখানে এসেছিলেন।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালে পুতিনের চীন সফরের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ঝংনানহাইয়ের বাগানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন এবং চা চক্রেও অংশ নিয়েছিলেন পুতিন।
চীনের ইতিহাস দেখালেন শি

বাগান ঘুরে দেখানোর সময় শি জিনপিং ট্রাম্পকে আরও বেশ কয়েকটি প্রাচীন গাছ দেখান এবং চীনের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরিদর্শন শেষে ট্রাম্পও নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এরকম পরিবেশের সঙ্গে আমি সহজেই মানিয়ে নিতে পারব।’

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্ত
বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই শীর্ষ সম্মেলনের মাঝেও ব্যক্তিগত বাগানে হাঁটাহাঁটি ও অনানুষ্ঠানিক আলাপ ছিল এক ব্যতিক্রমধর্মী মুহূর্ত। বিশেষ করে পুতিনের প্রসঙ্গ উত্থাপন এবং ব্যক্তিগত পরিসরে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ— দুই পরাশক্তির সম্পর্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতিতেও নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন